উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ
২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি এই প্রতিষ্ঠানটি কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, তা নির্ধারণে অধিকতর তদন্ত চলছে
মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড ও বিনামূল্যে আমদানির (এফওসি) সুবিধায় আনা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি এবং মেশিনারিজ আমদানিতে অনিয়ম করেছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) প্রাথমিক তদন্তে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি এই প্রতিষ্ঠানটি কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, তা নির্ধারণে অধিকতর তদন্ত চলছে।
১৮ অক্টোবর (রবিবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) সাভারের আশুলিয়ায় উইলিয়ামস সোয়েটার্স কারখানা পরিদর্শনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্ডেড লাইসেন্স থাকলেও ওই কোম্পানি বন্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে, ইনবন্ড ও আউটবন্ড রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা হয়নি। কারখানায় বন্ডের কাঁচামালের কোনো পূর্ববর্তী রেকর্ডও পাওয়া যায়নি।
তিনি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ড এবং এফওসি সুবিধার আওতায় চীন ও ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করেছে। এসব সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেগুলোর অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে মোট ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করে উইলিয়ামস সোয়েটার্স। এসব পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আমদানি করা এসব কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
এছাড়াও, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি করা ৫২ হাজার ৭৮৫ কেজি কাপড় (ফেব্রিক) পরিদর্শকদের দেখাতে পারেনি উইলিয়ামস সোয়েটার্স। অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, এসব কাপড় প্রক্রিয়াজাত বা উৎপাদন করে রপ্তানি করা হয়েছে— এমন কোনো নথিও কাস্টমস কর্মকর্তাদের দেখাতে পারেনি ওই কোম্পানি। অনলাইন ব্যবস্থায় যাচাই করেও তাদের কোনো রপ্তানি-সংক্রান্ত রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্রি এরাইভ্যাল প্রসেসিং (পিপিসি) সুবিধায় ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানি করে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই খাতে শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
রেজভী আহম্মেদ বলেন, অধিদপ্তরের নথি পর্যালোচনা এবং কারখানা পরিদর্শনে দেখা গেছে, কর-রেয়াত বা শুল্কছাড় (সিপিসি) সুবিধায় আমদানি করা যন্ত্রপাতি সেখানে পাওয়া যায়নি। ওই কোম্পানি এই সুবিধায় যন্ত্রাংশ ও কিছু মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিল। কিন্তু পরিদর্শনের সময় সেগুলোর কোনোটিই কারখানায় পাওয়া যায়নি।
আমদানি করা যন্ত্রপাতি কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সেই বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে কি না— সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেজভী আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা সেটা খুঁজিনি। সত্যতা আমরা পেয়েছি। মেশিন তাদের ফ্যাক্টরিতে থাকার কথা, কিন্তু সেখানে পাওয়া যায়নি।’
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, কাঁচামাল ও মেশিনারিজ আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে ফাঁকির অঙ্কই সবচেয়ে বেশি।
Shamiur Rahman
