ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড

স্ত্রী-সন্তান-শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারালেন নূর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৪ পিএম

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।

নূর আলম বলেন, ‘স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। আজ শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।’

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার ছাড়া অন্যরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। নিহত বাকি তিনজনের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০) ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।

আহত ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা সম্পর্কে ফারিয়া কবিরের মামা–মামি। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। হতাহতদের স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ এই কথা জানিয়েছেন।

নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। পেশাগত কারণে স্বপরিবারে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন।

নূর আলম বলেন, শ্যালক ও শ্যালিকাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তিনি নিজে এবং স্ত্রী ফারিয়া কবির ও ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার বেড়াতে যান। তার আগে বুধবার স্ত্রী-সন্তানসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত