এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ অক্টোবর (রবিবার) ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও সোনার পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। রান্নার ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারে করে এবং মানবদেহের রেক্টামে বিশেষ কৌশলে ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট বহন করা হয়েছিল।
ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারে মিলল ১ কোটি টাকার স্বর্ণ!
একদিনে দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ৩
চোরাচালানে বদলাচ্ছে কৌশল, কাস্টমস গোয়েন্দা বাড়াচ্ছে নজরদারি
বাংলাদেশকে স্বর্ণ, মাদকসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক চোরাচালানের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রগুলো প্রতিনিয়ত পাচারের কৌশল পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে চৌকস কর্মকর্তাদের একটি বড় দলকে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে মোতায়েনের পর থেকেই পাচারকৃত একাধিক চালান জব্দের ঘটনায় এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।
এদিকে, সকালের অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামনে আসে স্বর্ণ চোরাচালানের আরও বিস্ময়কর কৌশল। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে আগত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস৩৩৮ ফ্লাইটের দুই যাত্রী মোহাম্মদ সোলাইমান (পাসপোর্ট নং এ২২৩৮২৬৫০) এবং জোবায়েদ আহমেদ (পাসপোর্ট নং এ২৩৩৩৫৫৬২)-এর রেক্টামে লুকানো অবস্থায় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩টি করে মোট ৬টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ছয়টি বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম (২.৭৩৪ কেজি) এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
একদিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তু: চোরাচালানের দুই অভিনব কৌশল উদ্ঘাটন
একদিকে, নিত্যব্যবহার্য রান্নার সরঞ্জামের ভেতরে স্বর্ণবার, অন্যদিকে মানবদেহের অভ্যন্তরে ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্ট—একইদিনে দুই বিমানবন্দরের দুটি অভিযান স্বর্ণ চোরাচালানের পরিবর্তিত কৌশল সামনে এনেছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চোরাচালানকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে নতুন নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্যের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াচ্ছে কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ। সন্দেহজনক যাত্রী, পণ্য ও চালানের ওপর বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোরাচালান শনাক্ত ও প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সীমান্ত ও বন্দরকেন্দ্রিক নজরদারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত অভিযান বাড়ানো জরুরি। এতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে অবৈধ পণ্য পরিবহনের রুট হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।
Shamiur Rahman
