প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন রাজউক কর্মকর্তা পলাশ
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন অনিয়মের যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অসত্য, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গত ১৪ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র ইংরেজী ভার্সনে প্রকাশিত “ডিজাইন জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদার” শীর্ষক প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদার।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিভিন্ন অনিয়মের যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অসত্য, ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবেদনের অধিকাংশ অভিযোগ যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, এই ধরনের কোনো অভিযোগে তাকে এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দোষী সাব্যস্ত করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদলিপিতে পলাশ সিকদার বলেন, তার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত সম্পদ, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ এবং পারিবারিক সম্পদের বিষয়ে প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়নি। এর ফলে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে তিনি ও তার পরিবার সামাজিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়। তিনি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের বিষয়ে যথাযথ প্রতিকার প্রত্যাশা করেন।
সম্পাদকের নোট: উল্লিখিত প্রতিবাদটি রাজউকের কর্মকর্তা পলাশ সিকদারের পাঠানো প্রতিবাদলিপির ভিত্তিতে প্রকাশ করা হলো। এতে উল্লিখিত বক্তব্যসমূহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব দাবি ও অবস্থান। এসব বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে' কোনো চূড়ান্ত মতামত বা সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি লিখিত অভিযোগ, বিভিন্ন নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত এবং একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য যে, পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিভাগীয় তদন্ত চালানো হয়েছিল এবং দুর্নীতি দমন কমিশনও তার সম্পদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও দাপ্তরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করেছিল। এসব পদক্ষেপের আলোকে মূলত একটি অভিযোগ আকারেই প্রতিবেদন করা হয়েছিলো। এই বিষয়ে তাকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবেদন প্রকাশের আগে রাজউকের কর্মকর্তা পলাশ সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করেছেন এবং এই তথ্যকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, অভিযুক্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।" তার এই বক্তব্য মূল প্রতিবেদনে হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছিল।
সার্বিক বিবেচনায় দ্য ফিন্যান্স টুডে কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদলিপিতে উত্থাপিত বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বর্তমান অবস্থান পাঠকদের জানার স্বার্থে প্রকাশ করা হলো। একইসাথে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার পলাশ শিকদারের সম্মানার্থে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে' উক্ত প্রতিবেদনটি আপাতত প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য, তদন্তের অগ্রগতি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা-ও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
Shamiur Rahman
