পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, সাংবাদিকতার মান নির্ধারিত হোক যোগ্যতা, সততা ও নৈতিকতার আলোকে

শিক্ষকরা সাংবাদিকতা করতে পারবেন না—এমন ধারণা কতটা যুক্তিসংগত?

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩১ পিএম

সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ হওয়া উচিত বাস্তবসম্মত নীতিমালা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি—পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়

শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা—দুটি ভিন্ন পেশা হলেও উভয়ের মূল লক্ষ্য জ্ঞানচর্চা, সত্য অনুসন্ধান, নৈতিকতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিবেক ও মূল্যবোধ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, একজন সাংবাদিক সমাজের সামনে সত্য তুলে ধরে জনমত গঠন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি উন্মোচনে ভূমিকা রাখেন। তাই একজন শিক্ষক তাঁর মূল পেশার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে সাংবাদিকতা করলে তাতে আপত্তির কারণ কী—এ প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষা, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের অনিয়ম-অসংগতি তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম। এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, সাহস, পেশাগত যোগ্যতা ও জবাবদিহি। এসব গুণ কোনো নির্দিষ্ট পেশার মানুষের একক সম্পত্তি নয়। একজন শিক্ষক, আইনজীবী কিংবা অন্য পেশার দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি তাঁর যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সাংবাদিকতায় অবদান রাখতে পারেন।

সুতরাং, শুধু শিক্ষকতার পরিচয়ের কারণে কাউকে সাংবাদিকতা থেকে দূরে রাখার ধারণা বা প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ হওয়া উচিত বাস্তবসম্মত নীতিমালা, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি—পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়।

মফস্বল সাংবাদিকতার বাস্তবতা কি নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে?

দেশের মফস্বল সাংবাদিকতার বাস্তবতা শহরকেন্দ্রিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। অনেক সংবাদমাধ্যম তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয় না। কেউ কেউ সামান্য সম্মানী পেলেও তা দিয়ে সংসারের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ এসব সাংবাদিক প্রতিদিন স্থানীয় সমস্যা, জনদুর্ভোগ, অনিয়ম-দুর্নীতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং মানুষের অধিকারসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন।

রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, সময় ও শ্রম ব্যয় করে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সংবাদ সংগ্রহের খরচও তাঁদের নিজেদের বহন করতে হয়। কিন্তু তাঁদের শ্রমের যথাযথ আর্থিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয় না।

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে, যাঁরা সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করছেন, তাঁরা কি মফস্বল সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেছেন? সংবাদমাধ্যমের মালিকদের সঙ্গে সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর আলোচনা হয়েছে কি? কতটি সংবাদমাধ্যম নিয়মিত বেতন দেয় এবং সেই বেতন দিয়ে একজন সাংবাদিকের পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।

একজন সাংবাদিকেরও পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর দায়িত্ব রয়েছে। সংবাদমাধ্যম যদি তাঁর শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে কেবল সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়ে তাঁর পক্ষে সংসার চালানো কতটা সম্ভব?

এই বাস্তবতা বিবেচনা না করে অন্য পেশায় যুক্ত থাকার কারণে কাউকে সাংবাদিকতা থেকে দূরে রাখার চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের জীবিকার নিশ্চয়তা না দিয়ে তাঁদের বিকল্প পেশার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ সমস্যার সমাধান করতে পারবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শিক্ষকরা সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকলে সমাজের লাভ কী?

দেশের অনেক বেসরকারি শিক্ষক মূল পেশার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অবসর সময়ে সাংবাদিকতা করেন। কেউ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে, কেউ সত্য প্রকাশের তাগিদে, আবার কেউ স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ কাজে যুক্ত হন। তাঁদের অনেকে সাংবাদিকতা থেকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধাও পান না। তবু সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করে যান।

একজন শিক্ষক সাধারণত পাঠ, বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার চর্চা করেন। এসব দক্ষতা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল শিক্ষক সাংবাদিকতায় যুক্ত হলে তাঁর বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি, তথ্যের যথার্থতা এবং সামাজিক সচেতনতা সংবাদ পরিবেশনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শিক্ষক হলেই কেউ ভালো সাংবাদিক হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে, অন্য পেশার মানুষ হলেই তিনি অযোগ্য সাংবাদিক—এমন ধারণাও গ্রহণযোগ্য নয়। একজন ব্যক্তির সাংবাদিকতার যোগ্যতা নির্ধারণে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা, সংবাদবোধ, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং নৈতিক আচরণই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য।

আরেকটি বিষয়ও উপেক্ষা করা যায় না। মফস্বলের অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছাশ্রমে কিংবা নামমাত্র সম্মানীতে কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা মূল পেশার বাইরে থেকে সাংবাদিকতায় অবদান রাখেন, তাঁদের সবাইকে নিরুৎসাহিত করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়েও ভাবতে হবে।

বরং পেশাগত প্রশিক্ষণ, নৈতিকতার চর্চা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হতে পারে অধিক কার্যকর পথ। শুধু পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংবাদিকতার সুযোগ সীমিত করলে সাংবাদিকতার মান বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্ন

সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তবে এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দেশের সাংবাদিকতার সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দেশের সব সাংবাদিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম—এমন সাধারণীকরণ যেমন যথার্থ নয়, তেমনি শিক্ষক বা আইনজীবীরা সাংবাদিকতা করতে পারবেন না—এমন সিদ্ধান্তও যুক্তির পরিবর্তে পেশাগত পরিচয়কে বড় করে দেখার শামিল হতে পারে।

শিক্ষাগত সনদ অবশ্যই জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেই একজন ব্যক্তি দক্ষ সাংবাদিক হয়ে যান না। আবার তুলনামূলক কম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকা মানেই কেউ ভালো সাংবাদিক হতে পারবেন না, এমন সিদ্ধান্তও সঠিক নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা, সংবাদবোধ, ভাষার দক্ষতা, অনুসন্ধানী মানসিকতা, তথ্য যাচাই এবং নৈতিকতার চর্চাও সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত প্রশিক্ষণকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হলে সেই মানদণ্ড কি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে?

একজন শিক্ষক উচ্চশিক্ষিত হলে, ভাষা ও লেখালেখিতে দক্ষ হলে, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখলে এবং পেশাগত নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করলে শুধু তাঁর শিক্ষকতার পরিচয়ের কারণে তাঁকে নিরুৎসাহিত করার যৌক্তিকতা কোথায়? একইভাবে, অন্য পেশা থেকে আসা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর যোগ্যতা ও নৈতিক আচরণ যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষক ও আইনজীবীরা আইন ও প্রযোজ্য বিধি মেনে জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন—এ যুক্তি দিয়ে তাঁদের সাংবাদিকতার অধিকার সরাসরি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কারণ, জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা ও সাংবাদিকতা করার যোগ্যতা এক বিষয় নয়। তবে এ তুলনা থেকে অন্তত একটি নীতিগত প্রশ্ন তোলা যায়: কোনো ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় কি একাই তাঁর অন্য একটি বৈধ পেশায় অংশগ্রহণের উপযুক্ততা নির্ধারণ করবে?

প্রকৃত বিবেচ্য হওয়া উচিত, সাংবাদিকতার জন্য গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য মানদণ্ড কী হবে এবং তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না।

সাংবাদিকতার নামে অনিয়ম বন্ধ হোক, তবে দায় নির্ধারিত হোক প্রমাণের ভিত্তিতে

সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রবণতা অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুন্ন করে এবং জনআস্থাকে দুর্বল করে।

কিন্তু এই ধরনের অনিয়মের দায় কোনো একটি পেশার সব মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। একজন শিক্ষক সাংবাদিকতা করলেই তিনি সৎ হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার অন্য পেশার কেউ সাংবাদিকতা করলেই তিনি অসৎ হবেন, এমন ধারণারও ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে, মূল পেশার দায়িত্ব পালনে অবহেলা, স্বার্থের সংঘাত কিংবা প্রযোজ্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষক তাঁর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলা করছেন কি না, সাংবাদিকতার কারণে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, কিংবা তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন কি না—এসব বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, সমস্যা থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট আচরণ, দায়িত্ব ও প্রমাণের ভিত্তিতে; কেবল পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

প্রেস কাউন্সিলের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখা প্রয়োজন।

1. মফস্বল সাংবাদিকদের কতজন নিয়মিত বেতন-ভাতা পান, সেই বিষয়ে কি কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সামগ্রিক চিত্র রয়েছে?

2. যেসব সংবাদমাধ্যম সাংবাদিকদের বেতন দেয় না কিংবা নামমাত্র সম্মানী দেয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে?

3. সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা, তথ্য যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ কতটা কার্যকর?

4. একজন শিক্ষক বা অন্য পেশাজীবী যদি নিজের মূল পেশার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে অবসর সময়ে সাংবাদিকতা করেন, তাহলে শুধু তাঁর পেশাগত পরিচয়ের কারণে তাঁকে নিরুৎসাহিত করার যৌক্তিকতা কী?

5. সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত, পেশাগত স্বাধীনতা ও নৈতিকতার প্রশ্নগুলো কি সুস্পষ্ট ও সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়?

6. সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের নামে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হলে তার আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব যাচাইয়ের ব্যবস্থা কী হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ, সাংবাদিকতার মান উন্নয়নের জন্য শুধু বিধিনিষেধ আরোপ নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

সমাধান নিষেধাজ্ঞা নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত নীতিমালা

সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন করতে হলে প্রথমেই পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, তথ্য যাচাইয়ের চর্চা বাড়ানো এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। যাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। নৈতিকতা লঙ্ঘন করলে পেশাগত পরিচয় নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

কোনো পেশাজীবী সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকলে তাঁর ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত বা দায়িত্বের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে কি না, তা নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে যাচাই করাও সম্ভব। তবে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের আগে তার সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শেষ কথা হলো, সাংবাদিকতার যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়া উচিত পেশাগত দক্ষতা, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে—শুধু পেশার নাম দিয়ে নয়। শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা উভয়ই সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই এই দুটি পেশাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার পরিবর্তে জনস্বার্থে তাদের ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকার বাস্তবতা উপেক্ষা করে তাঁদের কাজের পরিধি সীমিত করার পরিবর্তে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা, সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার এবং পেশাগত জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে অধিক যুক্তিসংগত পদক্ষেপ। পেশাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি নয়, বরং যোগ্য ও সৎ মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

লেখকঃ রাজ রফিক একজন শিক্ষক, বিশিষ্ট কলামিস্ট, সারাক্ষণ নিউজের প্রধান সম্পাদক এবং শিবচর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত