খুলনায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৫ এএম

একই দিনে নগরীর পৃথক এলাকায় দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ড দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না

খুলনা নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় এক যুবক এবং সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া এলাকায় এক নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতংক বিরাজ করছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় লবণচরা থানার জিন্নাপাড়া সাত নম্বর গলিতে দুর্বৃত্তরা খুশি (২৫) নামের এক নারীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। তিনি এলাকার সুমন সরদারের স্ত্রী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে।

সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়া ৭ নম্বর সড়কের টাওয়ার গলির সামনে খুশি বেগমকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসা থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তাঁর মাথায় গুলি লাগে। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পরে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত খুশিকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোকনের মেয়ে এবং ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তাঁর একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

খুশির মায়ের অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি মেয়ের সাথে বাড়ির সামনে ছিলেন। সে সময় মিরাজ নামের এক যুবক খুশির কাছে এসে তাঁর খোঁজখবর নেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মায়ের সামনে খুশির মাথায় গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মাদককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের পূর্ব পাশে আনসার উদ্দিন লেনে গুলিতে নিহত হন তুষার। পুলিশ জানায়, পূর্ব বানিয়াখামারের লোহার গেট এলাকার একটি মাদ্রাসার সামনে প্রথমে ধস্তাধস্তি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তুষারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁর বুকে গুলি লাগলে তিনি মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান।

ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং কিছু দূর থেকে গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তুষারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তুষারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, তুষার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য ছিলেন এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তুষারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

তুষারও লবণচরা থানার জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। একই দিনে নগরীর পৃথক এলাকায় দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ড দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত