রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক: কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
উক্ত প্রতিবেদনটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের কারণে ভিত্তিহীন, প্রমাণবিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে উল্লেখ করে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: সোহেল মিয়া
দ্য ফিন্যান্স টুডেতে গত ৩রা সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত সংখ্যায় "রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক: কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। উক্ত প্রতিবেদনটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের কারণে ভিত্তিহীন, প্রমাণবিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে উল্লেখ করে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: সোহেল মিয়া।
উক্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত বেশ কয়েকটি অভিযোগের মধ্যে অন্যতম অভিযোগ ছিলো জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে মিরপুর ১৬ নং সেকশনের ১৩৫৮ বর্গফুটের ২-১/ সি নম্বর ফ্ল্যাটটি সংরক্ষিত প্রতিমন্ত্রী কোটায় তার বাবা মো: ফজলুল হকের নামে বরাদ্দ নেওয়া হয়। উক্ত ফ্ল্যাটটি ৯% সুদে ১৬ বছরের কিস্তিতে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দের তালিকায় থাকলেও গত ০৯/০৩/২০২৬ ইং তারিখে বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সোহেল মিয়া। একইসঙ্গে তার বা তার পরিবারের কারও নামেই বর্তমানে কোন গাড়ি নেই বলেও প্রতিবাদলিপিতে দাবি করেছেন সোহেল মিয়া।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সোহেল মিয়া ক্ষমতার অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে তার বাবার নামে টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা থেকে ২৯/৯/২০১৯ইং তারিখে "মেসার্স নেক্সাস এন্টারপ্রাইজ" নামে প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারের ট্রেড লাইসেন্সটি নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বাবা মো: ফজলুল হক এবং দুই ভাই ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে উক্ত ঠিকাদারি লাইসেন্স নিলেও এর বিপরীতে কোন কাজ করা হয়নি দাবি করেছেন সোহেল মিয়া।
সোহেল মিয়ার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌর এলাকায় সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে এফটি টীম কর্তৃক তার পরিবারের নামে যে বিপুল সম্পদের তথ্য "দ্য ফিন্যান্স টুডে"র উক্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিলো সেই বিষয়ে সোহেল মিয়া আপত্তি জানিয়েছেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, তার বাবা কালিহাতী উপজেলার বেতডোবা মৌজায় এস এ ৭১১ দাগ মেগাখালি ব্রীজের পাশে ১২ শতাংশ, ৭২২ দাগে মোখলেস মেম্বারের বাড়ির পাশে ১২ শতাংশ এবং ৫৬০ দাগে সাতুটিয়া গোরস্তানের পাশে ৮ শতাংশ জমিসহ মোট ৩২ শতাংশ জমি বিক্রি করে একই মৌজায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রীম টাকা নিয়ে টিনশেড মার্কেট করেন এবং কিছু টাকা ছোট সন্তানকে দেন ব্যবসা করার জন্য।
প্রতিবাদলিপিতে নিজেকে সাতুটিয়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের জামাই বলে দাবি করে সোহেল মিয়া বলেছেন যে তার সমন্ধি এবং স্ত্রী পৈত্রিকভাবেই বিপুল সম্পদের মালিক। তাদের নামে ক্রয়কৃত কোন সম্পদ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন সোহেল মিয়া।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে সোহেল মিয়া চাকরিতে নিয়োগের সময় যে দুটি অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল করেছিলেন সেটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো। এই বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে সোহেল মিয়া দাবি করেছেন যে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি-জুন সেশনে টাঙ্গাইলের দৃষ্টি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ছয় মাস মেয়াদি "কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স" (সনদ নং- ২৮০৫৪১৩, রেজি. নং-১৫২৮৩১) এবং একই সময়ে বগুড়ার ইনস্টিটিউট অব আইসিটির অধীনে ছয় মাস মেয়াদি "ডিপ্লোমা ইন মাল্টিল্যাংগুয়াল সেক্রেটারিয়াল সায়েন্স" কোর্স (সনদ নং: বি-৫১৬, রেজি. নং: এসআইটি-এইচকিউ-ডিএস-৫১৬, ভলিউম: পুরাতন [বি], পৃষ্ঠা নং-৮৩) সম্পন্ন করে সেগুলোর সনদ চাকুরিতে যোগদানের সময় দাখিল করেছেন।
উক্ত কোর্স দুটি মূলত দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স বিধায় ভিন্ন ভিন্ন শিফটে একই সময় একাধিক কোর্স করা যায় বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রতিবাদলিপিতে সোহেল মিয়া আরও বলেন, একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আমারতো এই ছোট পদে চাকরি করারই কথা ছিল না। ঠিকাদারি লাইসেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নিজের নামে কোনো লাইসেন্স আছে কি না তথ্য যাচাই করে দেখবেন। এসবই অপপ্রচার।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য তো আপনার জানার কথা নয়। আমার মনে হয় কেউ আপনাদের (সাংবাদিকদের) ভুল তথ্য দিয়ে মিসগাইড করছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বিভাগীয় অসদাচরণ ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো যদি সোহেল মিয়ার নিয়োগ ও পদোন্নতির নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি, অবৈধভাবে নেওয়া বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং সরকারি চাকুরির বিধিমালা অনুযায়ী তাকে আইনগত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
Shamiur Rahman
