মতিউর রহমান: সাংবাদিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তী

অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:১১ পিএম

মতিউর রহমান সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক জীবন্ত কিংবদন্তী। সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে ভূষিত হয়েছেন। এসব অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিচয় নয়; এগুলো দিনাজপুরের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও গৌরব। মতিউর রহমান শুধু একজন সাংবাদিক নন - তিনি দিনাজপুরের একজন কৃতী সন্তান, একজন সমাজহিতৈষী এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ

দিনাজপুরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে যাঁদের নাম শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তাঁদের মধ্যে মতিউর রহমান নিঃসন্দেহে সর্বোচ্চ উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্কুলজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর যে পথচলা শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আজও সেই পথচলা অব্যাহত। সাংবাদিকতাকে শুধু একটি মহান পেশা হিসেবেই নয়, মানুষের কথা বলার, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশের এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার এক মহৎ ব্রত হিসেবে তিনি গ্রহণ করেছেন।

তাঁর লেখা "দিনাজপুর: টুকরো টুকরো স্মৃতি কথায় খন্ড খনৃড ইতিহাস" পুস্তকটি তাই নিছক একটি বই নয় - এ যেন দীর্ঘ সাংবাদিকজীবনের অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শী স্মৃতি, সমাজ ও সময়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানুষের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতার এক মূল্যবান দলিল। যে কোনো সচেতন পাঠকের সংগ্রহে এমন একটি বই থাকা নিঃসন্দেহে আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

মতিউর রহমান সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক জীবন্ত কিংবদন্তী। তিনি এখনও দৈনিক ইত্তেফাক-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। একইসঙ্গে দিনাজপুর থেকে প্রকাশিত সর্বোচ্চ ও বহুল প্রচারিত দৈনিক উত্তর বাংলা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে সংবাদপত্র জগতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। লন্ডন থেকে বিশ্বের খ্যাতনাম সংবাদ সংস্থা "রয়টার্স"-এর উত্তরবঙ্গ ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউনাইটেড নিউজ এজেন্সি, দ্য নিউ নেশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন, সাংস্কৃতিক পত্রিকা পূর্বাণীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুরের প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সাহস, সততা এবং সংবাদ পরিবেশনে দায়বদ্ধতা তাঁকে সহকর্মী ও পাঠকমহলে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দিয়েছে।

সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলায় তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরস্কার, সম্মাননা ও স্বীকৃতিতে ভূষিত হয়েছেন। এসব অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পরিচয় নয়; এগুলো দিনাজপুরের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও গৌরব। মতিউর রহমান শুধু একজন সাংবাদিক নন - তিনি দিনাজপুরের একজন কৃতী সন্তান, একজন সমাজহিতৈষী এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। নিজের সংসার ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণ, শিক্ষা, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে স্কুল, মসজিদ, এতিমখানা, হেফজখানা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর যে ভূমিকা, তা নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

একজন মানুষ তাঁর কর্মজীবনে কত মানুষের উপকার করতে পারেন, কত মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাতে পারেন - মতিউর রহমান তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর কর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি প্রচারের আলো থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে রেখেছেন। নীরবে কাজ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এই প্রচারবিমুখ মানবিকতাই তাঁকে আরও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

দিনাজপুরের মাটি এমন একজন কৃতী সন্তানকে ধারণ করেছে - এটি নিঃসন্দেহে দিনাজপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকজীবন যেমন ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, তেমনি মানুষের কল্যাণে তাঁর নীরব অবদানও আগামী প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

মতিউর রহমানের মতো প্রবীণ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক আমাদের সমাজের সম্পদ। তাঁর অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও কর্মজীবনের নানা অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য হতে পারে এক মূল্যবান শিক্ষার উৎস। তাঁর লেখা এই পুস্তক সেই অভিজ্ঞতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে - এটাই প্রত্যাশা।

দিনাজপুরের এই গর্বিত সন্তান, সাংবাদিকতার এই প্রবীণ কারিগর ও মানবিক মানুষটির সুস্বাস্থ্য, শান্তিময় জীবন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। তাঁর কলম আরও বহুদিন সত্য, সমাজ ও মানুষের কথা বলুক - তাঁর কর্ম ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম।

লেখক একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট, নীতি বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মী। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট, জাতীয় সাংবাদিক সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড পীছ অ্যন্ড হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত