শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে আগ্রহী আইজিপি

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৫ পিএম

২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের ৩২তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেন আলী হোসেন ফকির

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর বাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, জনআস্থা ও সদস্যদের মনোবল পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি অপরাধ দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, জবাবদিহি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বিভিন্ন বক্তব্যে তুলে ধরেছেন তিনি।

চলতি বছরের শুরুর দিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের ৩২তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেন আলী হোসেন ফকির। এর আগে তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত আইজি ও বাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মাঠপর্যায়ে পুলিশ সুপার, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও কাজ করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার আইজিপি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অল্পসংখ্যক সদস্যের অপরাধের দায় পুরো বাহিনীর ওপর চাপিয়ে পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেওয়া উচিত নয়।

তাঁর মতে, অপরাধী সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোরতা এবং সৎ সদস্যদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের আস্থা—দুটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে আলী হোসেন ফকির পেশাদারিত্ব ও জনগণের সেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান নেতৃত্বের সামনে কাজটি শুধু অপরাধ দমন নয়; বরং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে “আমি রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধি নই, আমি রাষ্ট্র ও জনগণের আইনগত সেবক” এই পেশাগত পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাইয়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থী এসআইদের উদ্দেশে তিনি সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বদলি ও পদায়নকে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন বর্তমান আইজিপি। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করা গেলে তদবির ও অনিয়মের অভিযোগ কমার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের পেশাগত মনোবল বাড়তে পারে।

আইজিপি একাধিকবার বলেছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান পুলিশ নেতৃত্ব। ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ তদন্তবিষয়ক প্রশিক্ষণ উদ্বোধনের সময় আইজিপি এআই, ডিপফেক, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ধাপে ধাপে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এফবিআইসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সাইবার অপরাধ, আর্থিক অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা চলছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

পুলিশের পেশাদার সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে স্বচ্ছ বদলি-পদায়ন, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম, ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা এবং নাগরিকবান্ধব থানা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সার্বিক কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন আইজিপি।

আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনআস্থাকে একই সংস্কার কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ কতটা টেকসই পরিবর্তনে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত