ঝুপড়িতে ৩৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান
ঠিকাদার লাপাত্তা: তালতলীতে ৭ কোটি টাকার নতুন ভবন তালাবদ্ধ
ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু মূল কাজ শেষ না করেই হঠাৎ তড়িঘড়ি করে কাজ ফেলে সটকে পড়েন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস
চোখের সামনেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক পাঁচতলা ভবন। অথচ সেখানে প্রবেশাধিকার নেই শিক্ষার্থীদের। বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর আর দমবন্ধ করা ছোট কক্ষে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। বরগুনার তালতলী উপজেলার তালুকদারপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার গা-ঢাকা দেওয়ায় চরম অবকাঠামো সংকটে পড়েছে সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী।
যেভাবে থমকে গেল স্বপ্ন
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৩ জন (১০ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী)। দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক পাঁচতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু মূল কাজ শেষ না করেই হঠাৎ তড়িঘড়ি করে কাজ ফেলে সটকে পড়েন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস।
ঝুপড়িতে সীমাহীন দুর্ভোগ
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসহীন জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। অনেক কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তীব্র গরমে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। পাঠদানের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজও; একটি ছোট লাইব্রেরি কক্ষেই গাদাগাদি করে চালানো হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব ও আয়শা আক্তার মিতু আক্ষেপ করে বলে, “টিনের চালের নিচে তীব্র গরমে ক্লাস করা দুঃসহ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নেই, এমনকি ব্যবহার উপযোগী পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের সুবিধাও নেই।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যোগাযোগে ব্যর্থতা
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের জানান, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ভবনটি হস্তান্তর করা হয়নি। বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান চালু রাখতে হচ্ছে।
এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতান দ্য ফিন্যান্স টুডে'কে বলেন, “সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবন হস্তান্তর না করায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। পটুয়াখালী জেলার প্রথম শ্রেণির একজন ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের এহেন কর্মকাণ্ডে দক্ষিণবঙ্গে সমালোচনার ঝড় উঠেছে৷ এনিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
Shamiur Rahman
