ছদাহা কে ক স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে আ: লীগ নেতা ইসহাকের মনোনয়ন ঘিরে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৯ এএম

ইসহাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নে অবস্থিত ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সুশীল সমাজে উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা মোহাম্মদ ইসহাককে সভাপতি পদে নাম প্রস্তাব করেছেন বিএনপি'র পদবিহীন নেতা শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। স্থানীয় সুশীল সমাজ, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদ ইসহাক দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি ২০১৪'র একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে ও ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি আবেদনে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাঁরা হলেন—মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার, মোহাম্মদ ইসহাক ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।

স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বিএনপির সমর্থক এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শামীম আর স্বপ্নার ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, মোহাম্মদ ইসহাক আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পৃক্ততার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিএনপি ও এনসিপির স্থানীয় দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে সভাপতি পদে তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, ইসহাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলেও তাঁরা দাবি করেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা কোনো ব্যক্তিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।

তাঁদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, ইসহাক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি পাহাড় ও খাসজমি দখল, মাছের প্রকল্প ও ফলের বাগান স্থাপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ইসহাকের বিপুল সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশে সম্পদ থাকার বিষয়েও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত বিদেশ সফর এবং বিদেশে সম্পদ থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অতীতে ইসহাক সভাপতি থাকাকালে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ও স্থাপনা ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তাঁরা দাবি করেন।

এদিকে ইসহাককে সভাপতি করার উদ্যোগের প্রতিবাদে গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে ৩ হাজার টাকা রেভিনিউ ফি পরিশোধ করে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁরা আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রয়োজনে আইনি ও সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। মানববন্ধন, অবরোধ এবং উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গভর্নিং বডির সভাপতি পদে রাজনৈতিক প্রভাব বা অর্থ লেনদেনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা উচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা প্রয়োজন।

উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ইসহাকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত