বরগুনার তালতলীতে তহশিলদারের বিরুদ্ধে জাল ওয়ারিশ সনদে হোল্ডিং ও দাখিলা প্রদানের অভিযোগ

মো: মিরাজ হোসেন প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৭ পিএম

জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি চক্র অন্যের প্রায় ১৬ একর জমি আত্মসাৎ ও বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে

বরগুনার তালতলীতে জাল ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে হোল্ডিং খুলে খাজনার দাখিলা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে বড়বগী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল বাশারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে একটি চক্র অন্যের প্রায় ১৬ একর জমি আত্মসাৎ ও বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছোটভাইজোড়া গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মঞ্জু ও তার সহযোগী আবজাল মল্লিক পিং মৃত কালু মল্লিক, জাকির মল্লিক পিং মৃত রহিম মল্লিক গংরা অসৎ উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করেন।

উক্ত সনদে বড়বগী ইউনিয়নের জেএল নং-৪৪, বড়বগী মৌজার এসএ ১৭৭ নং খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট ১৬.১৯ একর জমি নিজেদের দেখানো হয়। অথচ উল্লেখিত জমি নিয়ে স্থানীয় মো. ইসমাইল মল্লিক ও মো. সিদ্দিকুর রহমান গংদের সাথে আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-১৩৯/২০২৩ চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ২৮/০১/২০২৪ তারিখের ১২/২৪ নং স্মারকে তালতলী উপজেলার ৫নং বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের নামে একটি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়। ওই সনদের সিলে "৫নং বরগুনা ইউনিয়ন পরিষদ" লেখা রয়েছে, যা ভুল ও সন্দেহজনক। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার আবুল বাশার সনদের সত্যতা যাচাই না করেই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ৫৮৭২ নং নতুন হোল্ডিং খুলে দেন এবং খাজনা আদায়ের দাখিলা প্রদান করেন। পরে ওই দাখিলা দেখিয়ে জমি বিক্রির পাঁয়তারা করে মঞ্জু চক্র।

এই বিষয়ে ওয়ারিশ সনদে নাম থাকা থয়লা চিং মগ বলেন, "আমি কোনোদিন ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করিনি। কারা কীভাবে আমার নামে এই জাল সনদ বানিয়ে অপকর্ম করছে, তা আমার জানা নেই।"

৫নং বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর মিঞা বলেন, "২৮/০১/২০২৪ তারিখের ১২/২৪ নম্বর স্মারকে যে ওয়ারিশ সনদটি দেখানো হয়েছে, তা আমাদের পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। ওই স্মারকে অন্য ব্যক্তির নামে ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়েছিল। জালিয়াতি করে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। ইউপি রেজিস্টারেও এই নামে কোনো রেকর্ড নেই।"

এদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে দাখিলা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে তহশিলদার আবুল বাশার বলেন, "মঞ্জুরা উংথয়চে মগ ও থয়লা চিং মগ নামে একটি ওয়ারিশ সনদ দিয়ে আবেদন করেছিল। তা দেখে হোল্ডিং ও দাখিলা কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা জমি বিক্রির অনুমতির আবেদন করলে সনদে জটিলতা রয়েছে জেনে অনুমতি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাখিলা প্রদান করলেই জমি কারও হয়ে যায় না।"

তিনি আরও জানান, উক্ত দাখিলা দিয়ে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুক্তিপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে গেলে ভুক্তভোগী ইসমাইল মল্লিক ও সিদ্দিক মল্লিক গং ০৭/০৪/২০২৫ তারিখে লিখিত দরখাস্ত করলে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জালিয়াতি স্পষ্ট হওয়ার পরও ভূমি কর্মকর্তা কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে পরোক্ষভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। অবিলম্বে অবৈধ হোল্ডিং ও দাখিলা বাতিল করে অভিযুক্ত তহশিলদার ও মঞ্জু চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত