নথিতে সরকারের মোটা অঙ্কের পাওনা, চার বছরেও মেলেনি হদিস
৮৯৩ বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের নথি গায়েব!
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট। এরই মধ্যে সরকারের পাওনা সংক্রান্ত বকেয়ার নথি সন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটিও গঠন করেছেন উত্তর বন্ডের কমিশনার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা দিতে গঠিত বন্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নথি-সংকটের তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকা বন্ড কমিশনারেটকে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত করার চার বছর পরও ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথির হদিস মেলেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক-কর বকেয়া থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই ঘটনায় শুধু প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাই নয়, সরকারের রাজস্ব আদায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং নথি সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
২,৬০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৯৩টির নথি নেই
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্টে ঢাকা বন্ড কমিশনারেটকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—দুই কমিশনারেটে ভাগ করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বন্ড-সুবিধা ও কাস্টমস সেবা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া। এনবিআরের ঘোষিত অধিক্ষেত্র অনুযায়ী ঢাকা উত্তর কমিশনারেটের আওতায় আসে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর এবং ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
বিভাজনের সময় ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের আওতায় মোট ২ হাজার ৬০৮টি প্রতিষ্ঠান আসে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট থেকে ১ হাজার ৭১৫টি প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর করা হয়নি। অর্থাৎ, উত্তর কমিশনারেটের আওতায় আসা মোট প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৪ দশমিক ২৪ শতাংশের নথি হস্তান্তরের বাইরে থেকে গেছে। হিসাবটি আরও সহজভাবে বললে—উত্তর কমিশনারেটের আওতায় আসা প্রায় প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিষ্ঠানের নথি এখনো অনুপস্থিত।
প্রশ্ন উঠছে, একটি সরকারি দপ্তর বিভাজনের সময় এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মূল নথি কীভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে গেল এবং চার বছর ধরে বিষয়টি কেন কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করা হলো না?
চিঠি চালাচালিতেই কেটে গেছে বছর
এনবিআর সূত্র বলছে, নথি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি ২০২৩ সালেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ওই বছর ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের তৎকালীন উপকমিশনার চপল চাকমা এসব নথি চেয়ে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটকে দুই দফা চিঠি দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ বন্ডের তৎকালীন উপকমিশনার সাদিয়া আফরোজ উত্তর কমিশনারেটের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়ে চিঠি দেন। পরে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন দক্ষিণ বন্ড কমিশনার আহসানুল হক উত্তর কমিশনারেটের কাছে নথি হস্তান্তর না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিন নম্বরসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু এরপরও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। উত্তর কমিশনারেট থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি; বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কার্যত অমীমাংসিত থেকে যায়।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট থেকেও নথিগুলো কোথায় রয়েছে, কখন এবং কীভাবে হস্তান্তর করা হবে—সেই বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে ২০২৩ সালের চিঠি চালাচালির পরও ২০২৪, ২০২৫ পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
বকেয়ার ফাইলও নেই
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো—শুধু ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথিই নয়, ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের নিজস্ব নথি ব্যবস্থাপনাতেও সরকারের নিরঙ্কুশ বকেয়া সংক্রান্ত একাধিক ফাইলের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি উত্তর বন্ড কমিশনারেটে সরকারের পাওনা আদায় নিয়ে বৈঠক করতে গিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। বকেয়ার হিসাব করতে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের পাওনা নির্ধারণ, আদায় বা দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথিও অনুপস্থিত।
এই কারণে নথি খুঁজে বের করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অস্তিত্ব, কার্যক্রম, বন্ড সুবিধার ব্যবহার এবং সরকারের কাছে তাদের প্রকৃত পাওনা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার মো. রিদুয়ান সরদারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অনুপস্থিত নথি শনাক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে উঠে আসে চার বছরের পুরোনো ঘটনা
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে নতুন কমিশনার যোগ দেওয়ার পর এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সরকারের নিরঙ্কুশ বকেয়া আদায় ও নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই চার বছর ধরে ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নথি অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাস্তবে চালু আছে কি না, তা যাচাই করতে সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর বন্ড কমিশনারেটের শাখা সহকারীদের ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ শাখার নথির তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের কমিটিকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
চার বছরে কেন খোঁজ হলো না?
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, ২০২২ সালে কমিশনারেট বিভক্তির সময় নথি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি ২০২৩ সালেই চিঠির মাধ্যমে উঠে এলে পরবর্তী তিন বছর কেন কার্যকর অনুসন্ধান হয়নি? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কতটি বর্তমানে সক্রিয়, কতটি বন্ধ, কতটির লাইসেন্স কার্যকর, কতটির বন্ড সুবিধা স্থগিত এবং কতটির কাছে সরকারের বকেয়া রয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদী বলেন, এনবিআরের নির্দেশনায় রাজস্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকারের নিরঙ্কুশ বকেয়া নিয়ে বৈঠক করা হয়। সেখানেই নথি-সংক্রান্ত বিষয়টি সামনে আসে। নথির সন্ধান পেতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ হাসমত আলী বলেন, ঢাকা উত্তর বন্ডের ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
নথি হারালে ঝুঁকিতে সরকারের রাজস্ব
বন্ড সুবিধার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে শুল্ক ও কর পরিশোধ না করেই উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পায়। এই সুবিধার বিপরীতে আমদানি, ব্যবহার, উৎপাদন ও রপ্তানির হিসাবসহ বিভিন্ন নথি সংরক্ষণ ও যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল নথি অনুপস্থিত থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের আমদানি-সুবিধা কতটা ব্যবহার হয়েছে, আমদানি করা পণ্য কোথায় ব্যবহৃত হয়েছে, নির্ধারিত পণ্য রপ্তানি হয়েছে কি না এবং সরকারের কোনো শুল্ক-কর পাওনা রয়েছে কি না—এসব যাচাই জটিল হয়ে পড়ে। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে রাজস্ব দাবি বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলেও মূল নথির অনুপস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
বন্ড ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যই হলো রপ্তানিমুখী শিল্পকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক-কর রাজস্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এনবিআরের নিজস্ব কৌশলগত নথিতেও bonded warehouse management পুরোপুরি অটোমেশনের মাধ্যমে দক্ষতা, নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অটোমেশন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন
বন্ড ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল নথিনির্ভরতা এবং অটোমেশনের ঘাটতির কথা উঠে আসছে। এনবিআর জানিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে বন্ডেড ওয়্যারহাউস-সংক্রান্ত কাস্টমস কার্যক্রম ডিজিটাল ও অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।
এনবিআরের বর্তমান প্রকাশিত তথ্যেও Customs Bond Management System (CBMS), Utilization Permission (UP) এবং বন্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার উপস্থিতি দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে পুরোনো কাগজভিত্তিক নথি, শাখাভিত্তিক ফাইল এবং এক কমিশনারেট থেকে অন্য কমিশনারেটে নথি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন।
এনবিআরের ২০২৪-২০২৮ কাস্টমস কৌশলগত পরিকল্পনায় bonded warehouse management system পুরোপুরি অটোমেট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে অটোমেশনকে দক্ষতা, নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি গায়েব, নাকি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা?
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, অনুপস্থিত নথির মধ্যে যদি সত্যিই সরকারের বড় অঙ্কের বকেয়া-সংক্রান্ত ফাইল থাকে, তাহলে এর আর্থিক প্রভাব সরাসরি রাজস্ব আদায়ের ওপর পড়তে পারে।
তবে নথি ইচ্ছাকৃতভাবে গায়েব করা হয়েছে—এমন অভিযোগেরও এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ অসাধু ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের আশঙ্কা করলেও সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—২,৬০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৯৩টির নথি চার বছর ধরে হস্তান্তর না হওয়া নিছক ছোটখাটো প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। এর সঙ্গে যদি সরকারের পাওনা জড়িত থাকে, তাহলে বিষয়টি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু উত্তর বন্ড নয়, বড় ব্যবস্থাপনা সংকেত
এনবিআর গত কয়েক বছরে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের বিভিন্ন দপ্তর পুনর্গঠন করে নতুন কর অঞ্চল, কমিশনারেট, কাস্টম হাউস ও অন্যান্য ইউনিট তৈরি করেছে। দপ্তর বিভাজনের সঙ্গে সঙ্গে নথি, মামলা, বকেয়া, লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড যথাযথভাবে হস্তান্তর করা না হলে একই ধরনের সমস্যা অন্য দপ্তরেও তৈরি হতে পারে।
বন্ড ব্যবস্থাপনায় এই ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের রপ্তানি খাতের জন্য bonded warehouse সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সুবিধার সঙ্গে শুল্ক-কর রাজস্বের বড় অঙ্কের স্বার্থ জড়িত।
ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বর্তমানে অ্যাকটিভ বন্ড লাইসেন্স, ইনঅ্যাকটিভ লাইসেন্স, ‘No Existence’ বন্ড লাইসেন্স, Demand/SCN, রাজস্ব আদায়, সার্টিফিকেট মামলা ও আদালত-সংক্রান্ত মামলার মতো তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোও প্রদর্শিত হচ্ছে।
তাই ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের নথি অনুসন্ধানের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে—কোন প্রতিষ্ঠানের কত বকেয়া, কত নথি অনুপস্থিত, নথি সর্বশেষ কার হেফাজতে ছিল, কেন হস্তান্তর হয়নি এবং চার বছর ধরে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন—তার পূর্ণাঙ্গ অডিট।
তদন্তে তিন প্রশ্নের উত্তর জরুরি
নথি উদ্ধারে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির তদন্তে অন্তত তিনটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—প্রথমত, ৮৯৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কতটির বন্ড লাইসেন্স বর্তমানে সক্রিয় এবং কতটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বশীল। দ্বিতীয়ত, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কতটির কাছে সরকারের শুল্ক-কর বা অন্যান্য রাজস্ব পাওনা রয়েছে এবং সম্ভাব্য বকেয়ার মোট পরিমাণ কত। তৃতীয়ত, ২০২২ সালে কমিশনারেট বিভাজনের সময় নথিগুলো সর্বশেষ কোন কর্মকর্তা বা শাখার কাছে ছিল এবং ২০২৩ সালে বিষয়টি জানার পরও কেন চার বছর ধরে তা নিষ্পত্তি হয়নি।
এই তিন প্রশ্নের উত্তর মিললেই বোঝা যাবে—এটি কেবল নথি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনো রাজস্ব ঝুঁকি। চার বছর ধরে ৮৯৩টি প্রতিষ্ঠানের নথি নেই। এখন প্রশ্ন শুধু নথি কোথায়—তা নয়; প্রশ্ন হলো, নথির সঙ্গে সরকারের কত টাকা পাওনাও কি হারিয়ে গেছে?
