সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিআইএসসি কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতায় হতবাক অভিভাবকগণ
বকেয়া বেতনের জেরে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে আটকে রাখার অভিযোগ
সেনাবাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ (বিআইএসসি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে মানসিক হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক থেকে দুই মাসের টিউশন ফি বকেয়া থাকার অজুহাতে সিটি (ক্লাস টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়ে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দীর্ঘ সময় লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন।
অভিভাবকদের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার রাতে বকেয়া বেতন থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে শিক্ষকদের মাধ্যমে ফোন দেওয়া হয়। তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠেয় সিটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে না।
অভিযোগে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তাদের ক্লাসে বা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং পাহারায় রাখা হয় একজন শিক্ষককে। টিফিনের সময়েও শিশুদের বাইরে বের হতে কিংবা সহপাঠীদের সাথে খেলাধুলা করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ এভাবে আটকে রাখায় শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়।
অভিভাবকরা জানান, এমন অমানবিক ঘটনা প্রতিষ্ঠানটিতে এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বে সিটি-১ পরীক্ষার সময়ও বর্তমান প্রিন্সিপালের নির্দেশনায় একই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেনাবাহিনীর অধীনে পরিচালিত একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরণের অমানবিক আচরণ কল্পনাই করা যায় না। স্কুলের বেতন বকেয়া থাকলে নোটিশ পাঠানো যেতো বা অভিভাবকদের সাথে কথা বলা যেতো। তাছাড়া বকেয়া বেতনের জন্য যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জরিমানার সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে কোমলমতি শিশুদের জিম্মি করে, পাহারায় রেখে টাকা আদায় করার এই সংস্কৃতি মারাত্মক অপরাধ।"
লাইব্রেরিতে শিশুদের আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইএসসি জলসিঁড়ির ভাইস প্রিন্সিপাল নাঈমা তাবাসসুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি অস্বীকার না করে দাবি করেন, বিষয়টি যেভাবে শোনা যাচ্ছে, পরিস্থিতি ঠিক তেমন ছিল না।"
তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, লাইব্রেরি কক্ষে শিক্ষার্থীরা থাকা অবস্থায় কয়েকজন অভিভাবক এসে বকেয়া পরিশোধ করে তাদের সন্তানদের নিয়ে গেছেন। শিশুদের আটকে রাখার এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ইঙ্গিত দেন তিনি।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—বকেয়া টিউশন ফির জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা বা মানসিক হেনস্তা করা যাবে না। পাশাপাশি ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী শিশুদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ও মানসিক নির্যাতন করা স্পষ্টত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সেনাবাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।
Shamiur Rahman
