চাঁদাবাজি-ভাঙচুরের মামলায় সৈয়দপুরে বিএনপি নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫৮ এএম

একজন শিল্পোদ্যোক্তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, দখলচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাঙালিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা খানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পরোয়ানাভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হোসেন, নাজিম খান, জাকির খান ও জাহিরুল ইসলাম। মামলার বাদী সৈয়দপুরের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী আলহাজ আমিনুল ইসলাম।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বাঙালিপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে অবস্থিত আমিনুল ইসলামের ‘আমিনুল সুপার মার্কেট’ এবং বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে যান রেজাউল করিম রেজা খানসহ কয়েকজন। সেখানে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমিনুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।একই সঙ্গে তাঁর বিসিআইসি সার ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রের একটি ঘর এবং মার্কেটের প্রায় দুই শতক জায়গা দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের পর আদালতে মামলা

ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন আমিনুল ইসলাম। পরে, এই বিষয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেসময় তিনি অভিযোগ করেন যে, মার্কেট ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে চাঁদা দাবির মাধ্যমে তাঁকে চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে, তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা (১০৮৩/২৫) দায়ের করেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উক্ত মামলায় বেআইনি সমাবেশ, অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, চাঁদা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় আদালতে মামলাটি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

মামলাটি আমলে নেওয়ার পর আদালত প্রথমে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। নির্ধারিত সময়ে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এদিকে সৈয়দপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি থানায় পৌঁছানোর পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার বিষয়

আমিনুল ইসলাম শুধু ‘আমিনুল সুপার মার্কেটের মালিকই নন; তিনি সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী মহলেও পরিচিত। তিনি সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, আমিনুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবং সৈয়দপুর উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি।

তার মতো একজন শিল্পোদ্যোক্তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, দখলচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রেজাউল করিম রেজা খানসহ পরোয়ানাভুক্ত ছয় আসামির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত