ব্লাইন্ড স্পটে লাগেজ টার্গেট, ‘বলপয়েন্ট মেথডে’ চুরি; অভিযোগের তীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের দিকে
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি: নিরাপত্তার ফাঁক গলে সক্রিয় ‘সিন্ডিকেট’
লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ব্যাগ থেকে মূল্যবান সামগ্রী উধাও এবং অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার না পাওয়ার ঘটনাগুলো শুধু যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের জন্য দীর্ঘদিনের এক আতঙ্কের নাম লাগেজ কাটা ও মালামাল চুরি। বিদেশফেরত প্রবাসী, হজযাত্রী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়া নারী ফুটবলার কিংবা বিদেশি পর্যটক—বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীই লাগেজ হারানো বা ব্যাগ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ করে আসছেন।
লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ব্যাগ থেকে মূল্যবান সামগ্রী উধাও এবং অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার না পাওয়ার ঘটনাগুলো শুধু যাত্রীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
বছরের পর বছর এসব অভিযোগের পর বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের তীর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের দিকে
বিমান থেকে যাত্রীদের লাগেজ নামিয়ে ট্রলি ও ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃতীয় পক্ষের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডাররা।

বিভিন্ন সময়ের অভিযোগ ও অনুসন্ধান সূত্র অনুযায়ী, লাগেজের কার্গো হোল্ড থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পরিবহনের মধ্যবর্তী সময়টিই চোর চক্রের সদস্যদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে।
অভিযোগ রয়েছে, উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড কিংবা র্যাম্প এলাকার এমন কিছু অংশ রয়েছে, যেখানে সিসিটিভি নজরদারি সীমিত বা কার্যকরভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। এসব স্থানকে ব্যবহার করে টার্গেট করা লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বহুস্তরীয় সিন্ডিকেট
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযোগ ও অনুসন্ধান থেকে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে লাগেজ চুরির ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ কম। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত অসাধু কর্মী, লোডার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কার্গো হোল্ড থেকে ট্রলি এবং সেখান থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত লাগেজ পরিবহনের বিভিন্ন ধাপে একাধিক ব্যক্তি যুক্ত থাকেন। ফলে কোনো একটি পর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি তৈরি হলে সেটিকে কাজে লাগানোর সুযোগ পায় অপরাধীরা। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মী বা তদারককারী পর্যায়ের ব্যক্তিদের উদাসীনতা কিংবা যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
টার্গেট করে লাগেজে চুরি
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি সাধারণত এমন লাগেজকে টার্গেট করে, যেগুলো দেখে ভেতরে মূল্যবান সামগ্রী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। বিদেশ থেকে আসা কার্টন, দামি ব্র্যান্ডের ট্রলি ব্যাগ, বিশেষ ধরনের লক বা সিলযুক্ত লাগেজ—এসবও তাদের নজরে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিমান থেকে লাগেজ নামানোর পর র্যাম্প এলাকা বা পরিবহনের কোনো পর্যায়ে সিসিটিভি নজরদারির বাইরে থাকা জায়গায় নির্দিষ্ট ব্যাগ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাগ খুলে ভেতরের মূল্যবান সামগ্রী বের করে নেওয়া হয় বলে অনুসন্ধান সূত্রের দাবি।
‘বলপয়েন্ট মেথড’: ব্যাগ না কেটেই চুরি
চুরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি কৌশল নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে, যাকে সংশ্লিষ্টরা ‘বলপয়েন্ট মেথড’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রলি ব্যাগের চেইনের মাঝখানে সাধারণ একটি বলপয়েন্ট কলমের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে চেইন খুলে ফেলা সম্ভব। এরপর ব্যাগের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বের করে নেওয়া হয়। চুরি শেষে চেইনের রানার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলে বাইরে থেকে ব্যাগটি অক্ষত বলেই মনে হতে পারে। ফলে যাত্রী ব্যাগ হাতে পাওয়ার আগে চুরির বিষয়টি অনেক সময় বুঝতে পারেন না।
এমনই একটি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী মারুফ বারকাত এই প্রতিবেদককে জানান, তার ঘটনাটি ছিল বেশ মন খারাপ হওয়ার মতো। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দর থেকে বাড়ি গিয়ে টের পেলেন, তার লাগেজ কাটা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলছিলেন, "ব্রাসেলস থেকে স্টপওভার সহ আমার ঢাকায় আসতে সময় লেগেছিল ১৯ ঘণ্টা। এরপর আবার লাগেজ পেতে ৪৫ মিনিট। লাগেজটা তোলার সময়ই হালকা মনে হচ্ছিল। প্রথমে বুঝতেই পারিনি। বাসায় গিয়ে দেখি ব্যাগের বাইরের দিকে একটা পকেট ছিল, সেটার চেইন খুলে ভেতরে ধারালো কিছু দিয়ে কাটা হয়েছে। চুরি শেষে আবার চেইন আটকে দেয়া হয়েছে।"
"বেলজিয়ান চকলেট বিশ্বব্যাপী খুব বিখ্যাত। বাচ্চাদের জন্য তাই অনেকগুলো চকোলেট এনেছিলাম। এত লম্বা ফ্লাইট পার করে আমি খালি হাতে বাসায় এসেছি। ওদেরকে কিছু দিতে পারিনি আমার কাছে এটাই বড় লস।", দু:খ করে বলছিলেন একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মি. বারকাত।
নোয়াখালীর বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলিমান রবিন দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজ করেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে এক বছর পর দেশে বেড়াতে এসেছিলেন। ঢাকায় পৌছানোর পর বিমানবন্দর থেকে বেশ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন সেদিন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোলিমান রবিন বলছিলেন, "আমার তিনটা লাগেজ ছিল। এর মধ্যে একটা হঠাৎ খেয়াল করি যে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো ছিল তা ছেঁড়া এবং তালা ভাঙা। খুলে দেখি ভেতরে আমার স্ত্রীর জন্য আনা গয়না, একটা দামি ঘড়ি এবং একটা গুচি ব্রান্ডের দামি হ্যান্ডব্যাগ নেই। আমার কিছু জামাকাপড়ও নিয়ে গেছে।"
সোলিমান রবিন বলছিলেন, তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে অভিযোগ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন এ নিয়ে অভিযোগ করার জন্য। কিন্তু তার অভিযোগ নেয়া হয়নি।
"আমাকে বলা হল এই ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকায় বিমানবন্দরে অথবা দুবাই-এ - যেখানে আমার স্টপওভার ছিল - সেখানে ঘটেছে, ঢাকায় নামার পরে না। আমি যেন সেখানে যোগাযোগ করি। আমি সেদিন খুবই হতাশ হয়েছিলাম। একে তো এতগুলো টাকার মাল হারালাম, তারপর আবার অভিযোগও নেবে না। এটা কেমন কথা?" আক্ষেপ করে বলছিলেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা সামগ্রী শরীরের পোশাক, বিশেষ পকেট কিংবা জুতার ভেতর লুকিয়ে নিরাপত্তা এলাকা থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে বিমানবন্দরের বাইরে থাকা ক্রেতাদের কাছে এসব সামগ্রী বিক্রি করা হয় বলে দাবি অনুসন্ধান সূত্রের।
ভোগান্তির পর অভিযোগ করতেও অনীহা
লাগেজ বেল্টের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজের ব্যাগ কাটা বা ভেতরের মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে অনেক যাত্রীই তাৎক্ষণিকভাবে বিপাকে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী বিমানবন্দরেই অভিযোগ জানাতে গেলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের বলা হয়, চুরি ঢাকার বিমানবন্দরে হয়নি; বরং ট্রানজিটের কোনো বিমানবন্দরে ঘটতে পারে।

ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক যাত্রী লিখিত অভিযোগ না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের একটি অংশ সময়ের স্বল্পতা, আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং হয়রানির আশঙ্কায় অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। যারা অভিযোগ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও তদন্তের ফলাফল, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন
লাগেজ চুরি ও যাত্রী হয়রানি নিয়ে অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পরিদর্শন শেষে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি নেই। এমনকি উড়োজাহাজ রানওয়েতে অবতরণের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই যাত্রীরা লাগেজ হাতে পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে লাগেজ কাটা, মালামাল চুরি এবং ব্যাগেজ ডেলিভারি নিয়ে মন্ত্রীর এমন দাবি বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরের সামগ্রিক সেবার উন্নতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যাত্রীদের 5 নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। দ্রুত লাগেজ সরবরাহ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে5—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ
সম্প্রতি পাঠানো একটি আইনি নোটিশে বিমানবন্দরের লোডার ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে অনিয়ম এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার পর সেই অর্থ তুলে নেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাইকোর্টের নির্দেশ, নতুন আইনি নোটিশ
লাগেজ কাটা, চুরি ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষোভ ও ধারাবাহিক অভিযোগের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, চুরি ও যাত্রী হয়রানির ঘটনা তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে শুরু করে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে আগমনী লাউঞ্জের বড় পর্দায় প্রদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থার কোনো সদস্য কোনো লাগেজ তল্লাশি করলে তা যাত্রীর উপস্থিতিতে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির মধ্যে করার দাবিও জানানো হয়েছে।
দায় এড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ জরুরি
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু বছরের পর বছর একই ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকলে প্রশ্ন ওঠে—নজরদারি ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কেন অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে?
কোনো একটি ব্যাগ চুরি হওয়া হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু একই ধরনের অভিযোগ যদি নিয়মিতভাবে আসে, তাহলে সেটিকে কেবল যাত্রীর অসতর্কতা বা ট্রানজিট বিমানবন্দরের সমস্যা বলে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।
এজন্য প্রয়োজন পুরো প্রক্রিয়ার "এন্ড-টু-এন্ড অডিট"; অর্থ্যাৎ বিমান থেকে লাগেজ নামানোর মুহূর্ত থেকে যাত্রীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের দায়িত্ব, সময়, কর্মী এবং নজরদারি ব্যবস্থা নথিভুক্ত করা।
লাগেজ চুরি বন্ধে বিশ্লেষকদের মতে কয়েকটি পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন—
☞ বিমান থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পুরো পথ শতভাগ সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
☞ সিসিটিভি ফুটেজ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তা পর্যালোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।
☞ লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপে কর্মীদের পরিচয় ও দায়িত্ব ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা।
☞ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা।
☞ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি ও প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
☞ যাত্রীর অভিযোগ গ্রহণে কোনো ধরনের অনীহা বা দায় এড়ানোর সুযোগ না রাখা।
☞ কাস্টমস বা নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে যাত্রীর উপস্থিতি ও ক্যামেরা নজরদারি নিশ্চিত করা।
☞ অভিযোগের নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কার্যকর ও দ্রুত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা।
বিমানবন্দর শুধু প্রবেশদ্বার নয়, দেশের ভাবমূর্তিরও আয়না
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো শুধু যাত্রী আসা-যাওয়ার জায়গা নয়; বিদেশিদের কাছে দেশের প্রথম ও শেষ অভিজ্ঞতার অন্যতম অংশ। ফলে লাগেজ চুরি বা যাত্রী হয়রানির প্রতিটি ঘটনা ব্যক্তিগত ক্ষতির বাইরে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। কারণ, বিমানবন্দরে একটি লাগেজ হারানো মানে শুধু একজন যাত্রীর সম্পদ হারানো নয়—এটি দেশের প্রতি তার আস্থারও ক্ষয়।
বিমানবন্দরে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানে শুধু অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী বা সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা নয়। বরং বিমান থেকে যাত্রীর হাতে লাগেজ পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং দায় নির্ধারণ নিশ্চিত করা।
Shamiur Rahman
