মামলা গোপন রেখে গ্রেপ্তারের চেষ্টার দাবি

সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে দুটি মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১১ এএম

গত ৩০ আগস্ট মামলা দুটি করা হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে

ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট মামলা দুটি করা হলেও প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে

ফারুকের অভিযোগ, মামলা দায়েরের বিষয়টি গোপন রেখে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে তিনি ‘হয়রানির উদ্দেশ্যে করা মামলা’ হিসেবে দাবি করেছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার বাদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এম এন আবছার। ৩০ আগস্ট দায়ের করা মামলাটি থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে ফারুকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখির বিষয়ও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্য মামলাটি করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল। একই দিনে দায়ের করা মামলাটি ১৮ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সমালোচনামূলক লেখালেখিকে কেন্দ্র করে বিরোধের দাবি

মামলা দুটির পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে তার করা বিভিন্ন সমালোচনামূলক লেখালেখি ও বক্তব্যকে কারণ হিসেবে দেখছেন ফারুক। তার দাবি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সমালোচনামূলক অবস্থান তুলে ধরেছেন। এ কারণে বিএনপির অভ্যন্তরের কয়েকটি গ্রুপ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছে।

ফারুক বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত তিনি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন। জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় ও কলাম লেখার পাশাপাশি টেলিভিশন টকশোতেও এসব বিষয়ে মতামত দেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও লেখালেখি করেন বলে জানান ফারুক।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ফারুক বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার ভাষ্যমতে, দলীয় অভ্যন্তরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করায় একটি অংশ তার ওপর ক্ষুব্ধ। একইভাবে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িত বলে যাদের সমালোচনা করেছেন, তাদেরও কেউ কেউ তার বিরোধিতা করছেন। এসব বিরোধের জেরে এই মামলাগুলো করা হয়েছে বলে দাবি তার।

‘আইনগতভাবেই মামলা মোকাবিলা করব’

ফারুক বলেন, ‘আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। আইনগতভাবেই এসব মামলা মোকাবিলা করা হবে।’

তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তার ও পরিবারের সদস্যদের ফোনও ট্র্যাক করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানান।

এদিকে, মামলা দুটির বাদী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে চাঁদা দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর পোস্ট এবং ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত