সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ, নিঃশর্ত মুক্তির দাবি
বরগুনায় মিথ্যা মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজ গ্রেফতার
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তাকে হয়রানির চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পূর্ণ সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি ও তরুণ সাংবাদিক আসাদ সবুজকে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় সারাদেশে সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তাকে হয়রানির চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পূর্ণ সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনের লঙ্ঘন ও মানবাধিকার ইস্যু
গ্রেফতারের পর সাংবাদিক আসাদ সবুজকে যেভাবে দুই হাত পিছনে হাতকড়া/দড়ি দিয়ে বেঁধে আদালতে হাজির করা হয়েছে, তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (PRB) এর ৩৩১ ধারা অনুযায়ী, হাতকড়া পিছনে পরানো যাবে কেবল বিরল ও ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, যেখানে আসামি অত্যন্ত বিপজ্জনক বা পলায়নপর। একজন নিরস্ত্র ও পেশাদার সাংবাদিক কোনোভাবেই এই ব্যতিক্রমের আওতায় পড়েন না। এছাড়াও এটি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা এবং নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর পরিপন্থী।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের প্রতি অসম্মান নয়, এটি সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
এদিকে, আজ আদালত প্রাঙ্গণে আসাদ সবুজকে হাজির করার সময় তার অবুঝ শিশু কন্যার কান্না ও আর্তনাদ উপস্থিত সকলের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়*<< প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবাকে এমন অবস্থায় দেখে শিশুটি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে। এই দৃশ্য প্রমাণ করে, একটি মিথ্যা মামলা শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, একটি পরিবারকেও কীভাবে বিধ্বস্ত করে দেয়।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং
নেতৃবৃন্দ বলেন, "এটি শুধু আসাদ সবুজের ওপর হামলা নয়, এটি মফস্বল সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্য আড়াল করা যায় না, কলম থামানো যায় না।"
সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে অবিলম্বে সাংবাদিক আসাদ সবুজের নিঃশর্ত মুক্তি এবং একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও, আইন লঙ্ঘন করে একজন তরুণ সাংবাদিককে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Shamiur Rahman
