মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ
চট্রগ্রামে হাসপাতালের ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অনুসন্ধানকালে সাক্ষীদের বক্তব্য ও সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জাহাঙ্গীর ও বেলালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রতীয়মাণ হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে
চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির সই ব্যবহার করে ১২টি চেকে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম-১ এ মামলা হয়েছে।
৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুদক-১ এর উপসহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলার অপর আসামি হলেন, হাসপাতালের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বেলাল উদ্দীন।
জাহাঙ্গীর চৌধুরী ২০০২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তাকে হাসপাতাল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামীরা দুইজন পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বরাদ্দকৃত সরকারি অনুদানের দুই কোটি ২১ লাখ টাকা ও অন্যান্য অনুদানের ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অনুসন্ধানকালে সাক্ষীদের বক্তব্য ও সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জাহাঙ্গীর ও বেলালের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রতীয়মাণ হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রাণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বেতন ও ভাতা খাতে সহায়তা, এম এস আর খাতে সহায়তা, পণ্য ও সেবা বাবদ সহায়তা, গরিব রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও অন্যান্য খাতে মোট সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এছাড়া জমি ক্রয়ের নামে নয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় এজাহারে।
দুদকের অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, ১ ও ২ নম্বর আসামি পরস্পর যোগসাজশ করে মঞ্জুরি করা খাতে ব্যয়ের পরিবর্তে ওই অনুদানের দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জাহাঙ্গীর চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরপূর্বক আত্মসাৎ করেন। ১২টি চেকের মাধ্যমে এই টাকা স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানান্তরিত ১২টি চেকের পাতায় চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ হিসাবে মৃত মো. শাহাবুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ১ নম্বর আসামি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী সই করেন। এভাবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপকর্ম করেছেন বলে মনে করছেন বাদী সবুজ হোসেন।
মো. শাহাবুউদ্দিন ২০২১ সালে মারা যান। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাাহাঙ্গীর চৌধুরী নিজের কমার্স ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার হিসাবে ডায়াবেটিক হাসপাতালের টাকা স্থানান্তর করেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরকে হাসপাতালের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট করে স্থগিতাদেশ আনেন। পরে হাইকোর্ট আবার স্থগিতাদেশ খারিজ করে দেন। বর্তমানে এডহক কমিটি হাসপাতালটি পরিচালনা করছে।
Shamiur Rahman
