রহস্য উদঘাটনে তৎপর পুলিশ

খুলনায় দিনেদুপুরে সাব-রেজিস্ট্রারকে অপহরণ, পরে মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১১ এএম

রহস্য উদঘাটনে তৎপর

খুলনা নগরীর কেডি ঘোষ রোডে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে আবার ফিরে আসতে দেখা যায়।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) বেলা ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক প্রথমে তাকে রিকশায়, পরে মোটরসাইকেলে করে নগরীর কালীবাড়ি ঘাটের দিকে নিয়ে যায়। প্রায় ৪০ মিনিট পরে তাকে আবার রিকশায় করে কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু ফিরে এসে কারা তাকে নিয়ে গেছে, এ ব্যাপারে কোনও কথা বলছেন না তন্ময় মণ্ডল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে খাবারের বিরতিতে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বের হয়ে রিকশায় উঠেন তন্ময় কুমার মণ্ডল। সঙ্গে সঙ্গে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা বেশ কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে এবং দুইজন তার সঙ্গে রিকশায় উঠে যায়। তাদের মধ্যে একজন রিকশায় উঠেই তার মুখে চেপে ধরে।

আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়,  একটি রিকশায় করে তন্ময়কে কিছুদূর নেওয়া হয়। এসময় রিকশার আগে মুখে রুমাল বাধা অবস্থায় একজনকে দৌড়াতে দেখা যায়। আরেকটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে ওই রিকশার পেছনে যেতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে, রিকশাটি সাব-রেজিস্টার অফিস ও জেলা পরিষদের মধ্যকার গলির মধ্যে ঢুকে মন্দিরের কাছাকাছি পৌঁছে রিকশা থেকে নামিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে ওঠানোর চেষ্টা করে। এসময় দুইজন পথচারী এগিয়ে আসলে অপহরণকারীদের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীদের একজনের হাতে পিস্তল দেখা যায়। এরপর তাকে মোটরসাইকেলে করে নদীর তীর হয়ে বাজারের দিকে নেওয়া হয়।

এদিকে, সরকারি একজন কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘাট এলাকায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিট পর সাব-রেজিষ্ট্রার তন্ময়কে কার্যালয়ে ফিরে আসতে দেখা যায়। এসময় তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। এই বিষয়ে তখন কিছু বলতে আপত্তি জানান তন্ময়।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘কয়েকজন যুবক কালীবাড়ি ঘাটের কাছে একটি দোকানে নিয়ে তাকে কিছু কাগজ সঠিক কিনা দেখতে দিয়েছে। পরে তারাই রিকশায় তুলে দিয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না। আর কোনও কথা বলতে চাই না।’

অস্থিরতা কাটিয়ে কিছু সময় পর তন্ময় স্বাভাবিক হলে কার্যালয়ে উপস্থিত সবাই তার সাথে আছে বলে আশ্বস্ত করলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি এখানে চাকরি করতে আসছি—দুর্নীতি করার জন্য আসি নাই। কোনও দুর্নীতিবাজদের সাথে আমি আপস করবো না, প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে—অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কেউ আমাকে টাকা দিতে পারবে না, কারও টাকা আমি অন্যায়ভাবে নেবো না।’

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, ‘সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। কিছু সময়ের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ফিরে আসেন। কিছু কাগজপত্র দেখতে তাকে কয়েকজন ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। পরে ছেড়ে দিয়েছে তাকে। এসময় কেউ তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেনি বলে জানিয়েছেন আমাদের।'

তিনি আরও বলেন, 'তন্ময় এখনও সঠিকভাবে কোনো তথ্য বা অভিযোগ দিতে পারেননি। কারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তদন্তের পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।'

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত