২৫ এজেন্সির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ⊕ বোয়েসেলের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চায় বায়রা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও সিন্ডিকেটের শঙ্কা

সামিউর রহমান প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৫ পিএম

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলতে আলোচনা যখন এগোচ্ছে, তখনই বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কেন্দ্র করে আবারও একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) একদল সদস্য।

সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য আগ্রাসন রোধে সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা এবং প্রয়োজনে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে তারা অভিযোগ পাচ্ছেন, আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগ ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫০ লাখ রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ‘সিন্ডিকেট ফি’ নেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে।

৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন প্রশ্ন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একাধিক সরকারি পদক্ষেপ। গত জুলাইয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সিন্ডিকেট গঠন এবং কর্মী প্রেরণসংক্রান্ত অনিয়ম।

এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৪৫৪ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিত নয়, বরং ৪৫.৪৫ বিলিয়ন টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগটি হাজার কোটি টাকার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন করে যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটি অতীতের বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বায়রার সদস্যরা।

‘আগের সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি কেন?’

ফখরুল ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, অতীতে যাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের কেউ বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠী নতুন কাঠামোর মাধ্যমে আবারও বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কি না।

তার ভাষায়, অতীতের সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যদি ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে একই ধরনের সীমিত এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থা কেন তৈরি হবে?

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী অতীতে সিন্ডিকেটে প্রবেশের জন্য কয়েক কোটি টাকা এবং কর্মীপ্রতি বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। এখন যদি ১৭ কোটি টাকা এবং কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সেটি আগের চেয়েও ভয়াবহ ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিতে পারে।

উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার বাজার?

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য মালয়েশিয়া। দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও সম্ভাব্য অভিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অনুমোদিত শ্রমিক-উৎস দেশগুলোর একটি। দেশটিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার কোটা অনুমোদনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও নির্দিষ্ট সেবা খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির বিষয় নয়, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা, কোটা ব্যবস্থা এবং দেশটির১ সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে নতুন ব্যবস্থায় কোন পর্যায়ে কে কর্মী বাছাই করবে, কে নিয়োগকর্তার চাহিদা সংগ্রহ করবে এবং কে এজেন্সিকে অনুমোদন দেবে—এসব বিষয় স্পষ্ট ও প্রকাশ্য করা জরুরি।

বায়রার পাঁচ দাবি

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা পাঁচটি মূল দাবি তুলে ধরেন।

প্রথমত, সব বৈধ এজেন্সির সমান সুযোগ। নেপালসহ অন্যান্য সোর্স কান্ট্রির মতো বাংলাদেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

দ্বিতীয়ত, বৈষম্যমূলক এজেন্সি নির্বাচন বন্ধ। ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো শ্রমবাজার কুক্ষিগত না করে এজেন্সি নির্বাচনের প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ্য, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মানদণ্ডে করার দাবি জানানো হয়।

তৃতীয়ত, সমঝোতা স্মারকের বিতর্কিত ধারা সংশোধন। কোন বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে—এটি মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের একক সিদ্ধান্তের ওপর না রেখে বাংলাদেশ সরকার অথবা সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার মাধ্যমে নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চতুর্থত, বোয়েসেলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু। মালয়েশিয়া যদি সীমিতসংখ্যক লাইসেন্স বা অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তাহলে বোয়েসেলের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সব বৈধ এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বায়রার সদস্যরা।

পঞ্চমত, কম খরচে কর্মী পাঠানো। বিএমইটির মাধ্যমে স্বচ্ছ কর্মী ডাটাব্যাংক তৈরি, সরকার নির্ধারিত যৌক্তিক অভিবাসন ব্যয় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ধাপে ধাপে গ্রহণ এবং শক্তিশালী সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়।

বোয়েসেল মডেল কতটা কার্যকর হতে পারে?

বোয়েসেলের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশে কর্মী নিয়োগ ও প্রেরণ করে এবং তাদের অনলাইন ব্যবস্থায় চাকরির আবেদন ও আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালেও বোয়েসেল মালয়েশিয়ায় হাউজকিপিং অ্যাটেনডেন্ট ও স্পা-থেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

ফলে বায়রার প্রস্তাবিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়ন করা হলে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার চাহিদা, কর্মীর ডাটাব্যাংক, এজেন্সির ভূমিকা, সরকারি অনুমোদন, ফি এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স—পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা সম্ভব হতে পারে।

তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বোয়েসেলের সক্ষমতা, জনবল, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।

মালয়েশিয়ার নিজস্ব ব্যবস্থাতেও কেন্দ্রীয় নজরদারি

মালয়েশিয়াতেও বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়ান স্টপ সেন্টার বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা আবেদন, লেভি পেমেন্ট, পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের এপ্রিলে জানায়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নতুন কোনো ডিজিটাল কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নিয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করা হচ্ছিল। একইসঙ্গে উৎস দেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং শ্রমিকের ঋণনির্ভরতা বা শোষণের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়।

এথেকে স্পষ্ট, শুধু এজেন্সি সংখ্যা সীমিত করলেই সিন্ডিকেট বন্ধ হয় না; বরং নিয়োগের প্রতিটি ধাপে তথ্যের স্বচ্ছতা, অর্থের ট্র্যাকিং এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই মূল বিষয়।

কর্মীর ওপর পড়বে সবচেয়ে বড় চাপ

সিন্ডিকেটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকের ওপর। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী বাড়লে কর্মীর অভিবাসন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেক কর্মী ঋণগ্রস্ত হন।

অতীতের মালয়েশিয়া-কেন্দ্রিক বিতর্কেও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ছিল অন্যতম বড় অভিযোগ। ২০২২-২৪ সময়ে কর্মীপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের পর শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু কর্মীর টাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।

এই কারণে নতুন বাজার খোলার আগে সরকার যদি সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেয় ‘কত টাকা নেবে, কে নেবে এবং কোথায় জমা হবে’—এই তিন প্রশ্নে, তাহলে অতীতের সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে।

স্বচ্ছতা ছাড়া নতুন বাজারও পুরোনো ঝুঁকি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি একটি পরীক্ষাও—অতীতের বিতর্ক থেকে সরকার কতটা শিক্ষা নিয়েছে, তার।

৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের পর এখন প্রয়োজন নতুন কোনো গোষ্ঠীকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না দিয়ে একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ কাঠামো তৈরি করা।

এক্ষেত্রে প্রতিটি বৈধ এজেন্সির যোগ্যতা যাচাই, নিয়োগকর্তার চাহিদা প্রকাশ, কর্মী নির্বাচনের মানদণ্ড, সরকারি নির্ধারিত ফি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ লেনদেন এবং প্রতিটি কর্মীর জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সরকারি রিক্রুটিং এজেন্ট তথ্য ব্যবস্থাতেও লাইসেন্সধারী এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর, অবস্থা ও মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে।

সেই তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে মালয়েশিয়ার বাজারের জন্য আলাদা রিয়েল-টাইম পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করা হলে কোন এজেন্সি কতজন কর্মী পাঠাচ্ছে, কত টাকা নিচ্ছে এবং কতজন কর্মীর প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে—তা নজরদারির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এখন সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই শুধু ‘কতজন কর্মী যাবে’ নয়।

প্রশ্ন হলো—কারা কর্মী পাঠাবে, কীভাবে তাদের নির্বাচন করা হবে এবং কর্মীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হবে?

কারণ বাজার যদি ২৫টি এজেন্সির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে নতুন করে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠতে পারে। আবার শত শত এজেন্সিকে কোনো মানদণ্ড ছাড়া সুযোগ দিলেও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

সমাধান হতে পারে একটি তৃতীয় পথ—যোগ্যতার ভিত্তিতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, কেন্দ্রীয় সরকারি নজরদারি এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল অর্থ ও নিয়োগ ব্যবস্থাপনা।

বায়রার সদস্যদের প্রস্তাবিত বোয়েসেল ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেই মডেলের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হতে পারে। তবে সেটি কার্যকর করতে হলে শুধু একটি নতুন সেবা চালু করলেই হবে না; প্রয়োজন হবে প্রকাশ্য নীতিমালা, নিরপেক্ষ এজেন্সি নির্বাচন, নিয়োগকর্তা যাচাই, ফি-সীমা, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ গ্রহণ এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এবার তাই আসল পরীক্ষা হবে—পুরোনো সিন্ডিকেট ভেঙে সত্যিই কি একটি স্বচ্ছ শ্রমবাজার তৈরি করা যায়, নাকি শুধু সিন্ডিকেটের মুখ বদলাবে?

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত