‘অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন’ ব্রিকস সম্মেলনে বার্তা শি জিনপিংয়ের
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে কেবল ধ্বংসের পথেই ঠেলে দিচ্ছে। এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসেছে ব্রিকস জোটের বড় বৈঠক। এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেন, অন্য দেশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে এবং কোনো দেশের বাণিজ্য আটকে রাখা যাবে না। তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত না মেনে সবাইকে এক হয়ে ব্যবসা ও আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়েও সম্মেলনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে কেবল ধ্বংসের পথেই ঠেলে দিচ্ছে। এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
সব দেশকে এক সুতোয় বাঁধার কথা তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মেলনের সূচনাতেই জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের অর্ধেক মানুষ ও ৪০ শতাংশ অর্থনীতি এখন আমাদের হাতে। ক্ষমতার পুরোনো নিয়ম ভেঙে এমন এক বিশ্ব বানাতে হবে যেখানে ছোট-বড় সব দেশের সমান অধিকার থাকবে।
৭ বছর পর ভারত সফর
২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাতের পর ভারত-চীন সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা সদস্য এবং চীনেরও কয়েকজন সেনা নিহত হন। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় দুই দেশের সম্পর্ক শীতল থাকলেও সাত বছর পর এবারই প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথমবার ভারত সফর করেন শি জিনপিং এবং ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দ্বিতীয়বার দেশটিতে যান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছর নরেন্দ্র মোদির চীন সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর ভারত যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সম্প্রতি তার কিছু অংশ শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও গতি পাচ্ছে।
Shamiur Rahman
