অবশেষে এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

সামিউর রহমান প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৭:২২ এএম

২২ আগস্ট (শনিবার ) দুপুর ২টার দিকে এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু হয়েছে এবং বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করছে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেটর এনার্জি পরিচালিত ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনাল তিন দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এক কর্মকর্তা বলেন, '২২ আগস্ট (শনিবার ) দুপুর ২টার দিকে এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু হয়েছে এবং বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করছে।’

তিনি বলেন, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহের ফলে এলএনজিভিত্তিক মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। মধ্যরাতের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে পারে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, একটি এলএনজি কার্গো আগামীকাল রোববার (২৩ আগস্ট) টার্মিনালে পৌঁছানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই তা এসে পৌঁছায়। ফলে আজ (২২ আগস্ট) থেকেই টার্মিনালটি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আজ (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে এলএনজিভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ মাত্র ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল। নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর পর সরবরাহ বাড়তে শুরু করে এবং বর্তমানে তা প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।

মোট এলএনজি সরবরাহের মধ্যে বর্তমানে সামিট প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

এদিকে দেশে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ নির্ভরযোগ্য পর্যায়ে রাখতে আমরা আরও এলএনজি কার্গো আনার জন্য কাজ করছি।’

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে টার্মিনালটি এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু করলেও ১৯ আগস্ট থেকে এলএনজি কার্গোর মজুত না থাকায় এর কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

অবশেষে এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

নতুন কার্গো এক দিন আগেই পৌঁছানোয় স্বস্তির আশা; দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। নতুন একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই টার্মিনালে পৌঁছানোয় এ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালুর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। মধ্যরাতের মধ্যে সরবরাহ আরও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, এক্সিলারেট টার্মিনালে এলএনজি বহনকারী একটি কার্গো রোববার (২৩ আগস্ট) পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সেটি নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই শনিবার পৌঁছে যায়। ফলে ওই দিন দুপুর থেকেই টার্মিনালটি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে সক্ষম হয়।

তিনি জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে দেশের এলএনজিভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন কার্গো আসার পর সরবরাহ দ্রুত বাড়তে থাকে এবং পরে তা প্রায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ এখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ নির্ভরযোগ্য পর্যায়ে রাখতে আমরা আরও এলএনজি কার্গো আনার জন্য কাজ করছি।’

এলএনজি সরবরাহে বিপর্যয়

এক্সিলারেটের টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। প্রায় ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর ৬ আগস্ট এটি আংশিকভাবে চালু হয়। এরপর ১৪ আগস্ট আবার কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১৫ আগস্ট সীমিত পরিসরে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সংকট দেখা দেয়।

সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে টার্মিনালটির এলএনজি মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে। অথচ ওই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে সরবরাহ-চাহিদার ঘাটতি ছিল বিপুল।

দেশের দুটি এফএসআরইউর সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এক্সিলারেটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে এই টার্মিনাল বন্ধ থাকলে আমদানি করা এলএনজি থেকে সম্ভাব্য বড় একটি অংশ গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয় না।

শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে স্বস্তির প্রত্যাশ

এলএনজি সরবরাহে বারবার বিঘ্ন ঘটায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে গ্যাসনির্ভর শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

গত কয়েক সপ্তাহে এলএনজি সরবরাহের ওঠানামার কারণে জাতীয় গ্যাস সরবরাহও ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৮ আগস্ট দুই টার্মিনাল থেকে মোট এলএনজি সরবরাহ ছিল প্রায় ৬২৪.৬ মিলিয়ন ঘনফুট; ওই সময় দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ২৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বলে পেট্রোবাংলার তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। মধ্যরাতের মধ্যে আরও প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির জন্য নিয়মিত এলএনজি কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

কার্গো নির্ভরতায় ঝুঁকি

দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও পর্যাপ্ত কার্গো সময়মতো না আসা এবং টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে সরবরাহে বারবার ছন্দপতন হচ্ছে। এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও এলএনজি কার্গো খালাস ও টার্মিনাল পরিচালনাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহ কমে গিয়েছিল।

এবারও নির্ধারিত সময়ের আগে কার্গো পৌঁছানোয় এক্সিলারেট টার্মিনাল দ্রুত চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু একটি কার্গো দিয়ে দেশের গ্যাস সংকট স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না। জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে নিয়মিত কার্গো আমদানি, টার্মিনালগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহকে নির্ভরযোগ্য পর্যায়ে রাখতে আরও এলএনজি কার্গো আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন কার্গো আসার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ বাড়লেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো বড়। তাই এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু হওয়াকে তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হলেও গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটাতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত