বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
শেয়ারবাজারে ‘অস্বাভাবিক’ পতন: অনুসন্ধানে আজ বিএসইসি-ডিএসই বৈঠক
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ডিএসইর সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করবে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। বৈঠকে ডিএসইর সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান যোগ দেওয়ার পর বাজারে যে গতি এসেছিল হঠাৎ তা থমকে গেছে। দুই সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ কমছে। এতে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে।
যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বেড়েছিল, দরপতনের কারণে এগুলোর দাম পড়ে যাচ্ছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। হঠাৎ বাজারের এই পতনমুখী প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এই অবস্থায় বিষয়টি অনুসন্ধানে নামছে বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ডিএসইর সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করবে সংস্থাটি। বৈঠকে ডিএসইর সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরে শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কয়েক দফায় বেড়েছিল, এখন সেগুলো কমে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ভালো বাজার মনে করে লাভের আশায় বেশি দামে শেয়ার কিনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এখন লোকসানে পড়েছেন।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাজারের সাম্প্রতিক ‘অস্বাভাবিক’ দরপতনের কারণ খতিয়ে দেখছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর ও লেনদেনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই যেসব কোম্পানির শেয়ারদর দ্রুত কমে যাচ্ছে, সেগুলোর লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের আচরণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিএসইসি সূত্র বলছে, বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হতে পারে। তবে কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদরে হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কারসাজি, গুজবনির্ভর লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ডিএসইর সূচক কমেছে ৩৪৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটির নিচে নেমে গেছে। এই সময় বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাজারের এই টানা দরপতনের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে রাজধানীর মতিঝিলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষের চলমান পর্যবেক্ষণ ও তদন্তে বাজারের সাম্প্রতিক এই আকস্মিক পতনের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও গুজব বা আতঙ্কে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি এবং বাজারের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, কয়েক দিন ধরে কিছুটা অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। এটা সার্ভিল্যান্স বিভাগ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সার্ভিল্যান্স বিভাগ বাজারের সার্বক্ষণিক লেনদেন নজর রেখেছে। যেকোনো অস্বাভাবিক ক্রিয়া বা দরপতনে কোনো গোষ্ঠী বা কারও অসৎ তৎপরতা পাওয়া গেলে পদক্ষেপ নেবে বিএসইসি। তবে দরপতন স্বাভাবিক ঘটনাও হতে পারে।
Shamiur Rahman
