বিগত সরকারের দুর্নীতি তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৩ পিএম

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার সংলগ্ন শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়ক পরিদর্শনকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি বলেছেন, আগের সরকারের আমলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি টেকসই ও পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজার সংলগ্ন শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বিগত সরকারের সময়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত হবে। জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিত ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধে সরকার কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সফল হব।"

তিনি জানান, সড়ক রক্ষায় ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ এবং বড় আকারের টিউব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এর ফলে আপাতত ভাঙনের তীব্রতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ভূঞাপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খাল ও নদী খনন কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপথ বজায় থাকলে ভাঙনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকার স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর বড় ভাই, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ. কে. এম. রেজাউল করিম, গোপালপুর থানার ওসি রুহুল আমিন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট ভাঙনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত