সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম
প্রশাসনে উপসচিব পদে বড় ধরনের পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে নিয়মিত কর্মকর্তার পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাও রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্যে একটি প্রজ্ঞাপনে ২৬২ কর্মকর্তা এবং অপরটিতে বিদেশে কর্মরত ১৫ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে সরকারের উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপসচিব) নিয়োগ করা হয়েছে।
তালিকা দেখতে ক্লিক করুন: তালিকা-১ ও তালিকা-২
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তাদের স্ব স্ব পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন উপসচিবদের পদায়ন করে এখনও আলাদা কোনো আদেশ জারি হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মূল বিবেচনায় ছিল ৩১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এর পাশাপাশি আগের বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিবঞ্চিত বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও নির্ধারিত অনুপাতে পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনে
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনে বড় পরিসরে এটি দ্বিতীয় দফার পদোন্নতি। এর আগে গত ৯ জুলাই ১৭৯ কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
‘সরকারের উপসচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’ অনুযায়ী উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের এবং ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য সিনিয়র সহকারী সচিব পদে অন্তত পাঁচ বছর চাকরিসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে পদোন্নতির মূল্যায়নে নির্ধারিত বেঞ্চমার্কে অন্তত ৮৩ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে।
আপাতত ওএসডি, পরে পদায়ন
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করবেন। সরাসরি অথবা অনলাইনে ই-মেইলের মাধ্যমেও যোগদানপত্র পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, পদোন্নতির আদেশে উল্লেখ করা কর্মস্থলের পরিবর্তন হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বর্তমানে যে দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেই দপ্তরের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে যোগদানপত্র দেবেন। তবে পদোন্নতি পেলেও এখনই সবাইকে নতুন কর্মস্থলে পাঠানো হচ্ছে না। পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৭৭ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনে পদায়ন করা হতে পারে।
বিরূপ তথ্য পেলে পদোন্নতি বাতিলের সুযোগ
পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে সতর্কতাও রাখা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে জারি করা আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করার অধিকার সরকার সংরক্ষণ করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, একসঙ্গে ২৭৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যম পর্যায়ে শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মকর্তা পদায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের দ্রুত পদায়ন করা হলে প্রশাসনের নিয়মিত কাজের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।