বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের বিষয়ে যা বললেন এস জয়শঙ্কর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৪৫ এএম

শনিবার (২২ আগস্ট) দিল্লিতে ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ছাড়াও পাকিস্তানসহ জয়শঙ্কর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের শর্ত নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, যে কোনো সম্পর্ক কার্যকর রাখতে হলে তা ‘পারস্পরিক স্বার্থের’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিল্লিতে ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে তিনি এই মন্তব্য করেন। সেখানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ছাড়াও পাকিস্তানসহ জয়শঙ্কর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

বাংলাদেশের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এস জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। এর বদলে বলেছেন, ‘যে কোনো সম্পর্ক টিকে থাকার শর্তই হলো উভয়ের জন্য লাভজনক পারস্পরিক স্বার্থ।’

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই শর্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও জয়শঙ্কর সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। এর বদলে বলেছেন, আমি আপনাদের বলতে পারি, যেকোনো সম্পর্ক টিকে থাকার মূল শর্তই হলো দুই পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ। এটা এমন হতে হবে যেন আমাদের দুজনের জন্যই লাভজনক হয়।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমার প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা আমি করি না। আমি যেমন আশা করি তারা আমার স্বার্থের বিষয়টি উপলব্ধি করবে ও সম্মান জানাবে, তেমনি তাদের স্বার্থ বোঝার ও সম্মান জানানোর ক্ষেত্রেও আমার দিক থেকে একটি যুক্তিযুক্ত ভারসাম্য থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, যখন এই পারস্পরিক মেলবন্ধন বা একমত হওয়ার জায়গাটা তৈরি হয়, তখনই সম্পর্কগুলো সুন্দরভাবে এগিয়ে চলে। যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো এই পারস্পরিক স্বার্থের মেলবন্ধন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর আরও বলেন, যখন একটি সমঝোতার জায়গা বা ঐকমত্যের ভিত্তি তৈরি হয়, তখনই সম্পর্কগুলো সুন্দরভাবে এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, যেকোনো দ্বিপক্ষীয় গভীর সম্পর্কের মূলে থাকে পারস্পরিক স্বার্থ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার দাবির প্রসঙ্গেও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। তবে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জয়শঙ্কর। তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মূলত দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনার ওপর জোর দেন।

জয়শঙ্করের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। একই সময়ে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক ও কার্যকর করার বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত