সাইবার মামলায় আনিসুর রহমানের আগাম জামিন আবেদন বাতিল, নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২১ জুলাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি আদালতের বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় মো. আনিসুর রহমানকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন সেশনস জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আত্মসমর্পণের পর তাঁর জামিনের আবেদন থাকলে তা আইন ও মামলার মেরিট বিবেচনায় স্বাধীনভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ জুলাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি আদালতের বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ ও বিচারপতি নাসরীন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১৭ ও ২৫ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় অভিযুক্ত আনিসুর রহমান হাইকোর্টে সরাসরি জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৮ ধারায় দায়ের করা ফৌজদারি বিবিধ মামলা নং-৪৯১০০/২০২৬-এর শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নং-১০, তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬ এবং জিআর মামলা নং-৫১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও আনিসুর রহমান ও তার সহযোগীরা বাদী মোঃ খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিসহ একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। এই বিষয়ে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, "আমি আরেকটি জিডি করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্ট আমি বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করব। আশা করি, আদালত ন্যায়বিচার করবেন।”
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামি মো. আনিসুর রহমান তার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। শুনানিতে তার পক্ষে আইনজীবীর বক্তব্য শোনেন আদালত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যও শুনেছেন আদালত।
আদেশে আদালত মামলার তথ্য-উপাত্ত, এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ এবং আবেদনপত্রে উল্লেখিত বক্তব্য বিবেচনা করে আবেদনকারীকে ২১ জুলাই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে মেট্রোপলিটন সেশনস জজ, ঢাকা-এর আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে হবে।
আদালত আরও নির্দেশ দেন, আত্মসমর্পণের পর আবেদনকারী জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালত তা স্বাধীনভাবে এবং নিজস্ব মেরিটের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে স্বশরীরে তদন্তকারী কর্মকর্তাত কাছে উপস্থিত হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশের সারকথা: আনিসুর রহমানকে হাইকোর্ট সরাসরি জামিন দেননি। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করার সুযোগ দিয়েছেন। ফলে তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে সেই আবেদন আইন ও মামলার মেরিট বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আদালত স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন। হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে নিম্ন আদালতে জামিন নিশ্চিত হয়েছে—এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
তবে বাদী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার কাগজপত্র পৌঁছায়নি এবং আসামি মো. আনিসুর রহমানও সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
Shamiur Rahman
