নিয়ন্ত্রণে কি পুরোনো সিন্ডিকেট?
মামলা-দুদকের অভিযোগের পরও গৃহায়ণে বহাল তবিয়তে হারিজুর
উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; আর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকতে হবে
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) ঢাকা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমানকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব বিস্তার, ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অর্থায়নের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের আওতায় এসেছে।
সূত্র মতে, মামলা ও তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকার পর তাঁর প্রশাসনিক অবস্থান, দায়িত্ব ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর?
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ মে মিরপুর মডেল থানায় হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্র ও অর্থায়নের অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন যে, মামলার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং মামলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি জমি দখল ও ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাতে দুদকের মামলা
হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে স্পষ্ট নথিভুক্ত অভিযোগগুলোর একটি পল্লবীর ঝিলপাড় এলাকার সরকারি জমি নিয়ে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহসহ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে। উক্ত মামলায় আসামিদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু হানিফ এবং তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হারিজুর রহমান।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবীর ঝিলপাড় এলাকায় প্রায় ৭ একর সরকারি জমি দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে দখলে রেখে সেখানে ৬৫০ থেকে ৭০০টি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব স্থাপনা থেকে ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০০৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ভাড়া উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে ২১ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে জমিটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ২১৭ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।
স্বপ্ননগর প্রকল্পে মালামাল বিক্রির অভিযোগ
মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ‘১৫টি ১৪ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির নথিতেও রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির তালিকায় প্রকল্পটির সরকারি প্রকল্প কোড ও বিবরণ পাওয়া যায়।
এই প্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, অকেজো ও অব্যবহৃত মালামালের প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সেগুলো বিক্রি করা হয়। পরে মাত্র ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে নথিপত্র অনুমোদনের অভিযোগ করা হয়েছে।
এই অভিযোগের সঙ্গে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের নামও জড়ানো হয়েছে। তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সম্পদ এবং বিপুল অর্থ থাকারও দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়ে অভিযুক্তদের সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ভূমি রেজিস্ট্রি ও ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
দোলনচাঁপা-কনকচাঁপা: বাড়ল প্রকল্প ব্যয়, কমল ক্ষতিগ্রস্তদের ফ্ল্যাট?
মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটের আসাদ এভিনিউ ও সাত মসজিদ রোডে গৃহায়ণ কনকচাঁপা ও গৃহায়ণ দোলনচাঁপা নামে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির নথিতেও প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগ আরও গুরুতর।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের মূল ব্যয় ৪৬৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪১ কোটি ১১ লাখ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৬০ সাল থেকে বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্ত কলোনির বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত ২৫৩টি ফ্ল্যাট কমিয়ে ১১৮টি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, অবশিষ্ট ফ্ল্যাটের একটি অংশ নীতিমালা ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের মূল অনুমোদন, সংশোধিত ডিপিপি, বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, বরাদ্দ তালিকা এবং লটারির নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন।
১৯ বছর ঢাকায় থাকার দাবি
হারিজুর রহমানকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ হলো, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং এর ফলে তাঁর একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থেকেই একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই টেন্ডার, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা এবং ফ্ল্যাট ও প্লট বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এই বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত অত্যাবশ্যক বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ঢাকা সার্কেলের অধীনে সরকারি আবাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের একাধিক কাজ পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজের পরিমাপ, মান যাচাই, ঠিকাদার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মকর্তা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘিরে ঠিকাদারি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সময়ের ই-জিপি তথ্য, দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান, কার্যাদেশ, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন এবং কাজের পরিমাপ বই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এসব নথি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে একই প্রতিষ্ঠান বা একই গোষ্ঠী বারবার কাজ পেয়েছে কি না এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
গ্রাহক সেবায় দালাল-নির্ভরতা
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা—প্লট, ফ্ল্যাট, নামজারি, হস্তান্তর, বরাদ্দ ও অন্যান্য সেবা যেন স্বচ্ছ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়।
কিন্তু ঢাকা সার্কেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দালালনির্ভরতা, ফাইল আটকে রাখা এবং অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, অর্থের বিনিময় ছাড়া অনেক সেবা পাওয়া কঠিন এবং কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে পড়তে হয়।
এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কাঠামোর দুর্বলতারও প্রমাণ। ফলে ব্যক্তিভিত্তিক তদন্তের পাশাপাশি পুরো ঢাকা সার্কেলের সেবা, ফাইল নিষ্পত্তি ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ার অডিট প্রয়োজন।
অভিযোগের কেন্দ্রে তিন কর্মকর্তা
অভিযোগগুলোতে হারিজুর রহমানের পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাওসার মোর্শেদ এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের নামও এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন মূলত প্রকল্প বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, টেন্ডার এবং আর্থিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তের অগ্রগতি, মামলার বর্তমান অবস্থা, বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং আদালতের নথি প্রকাশ করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ওপরই—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন ফৌজদারি মামলা এবং দুদকের মামলা রয়েছে, তখন তিনি একই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রকল্প ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন কীভাবে?
বিশেষ করে দুদকের মামলায় হারিজুর রহমানের নাম আসামি হিসেবে রয়েছে—এমন তথ্য একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক তদন্ত করা।
প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত ও সম্পদের যাচাই
হারিজুর রহমান ও তাঁর সঙ্গে নাম আসা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে কয়েকটি বিষয় জরুরি—তাঁদের গত ১৫-২০ বছরের পদায়ন ও বদলির রেকর্ড প্রকাশ; সংশ্লিষ্ট সময়ের আয়কর রিটার্ন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের তুলনা; ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর সম্পদের যাচাই;সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের আইনসম্মত তদন্ত; গত কয়েক বছরের টেন্ডার ও ই-জিপি তথ্য বিশ্লেষণ; একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পেয়েছে কি না তা যাচাই; ঝিলপাড়ের ৭ একর জমি-সংক্রান্ত দুদক মামলার নথি পর্যালোচনা; স্বপ্ননগর প্রকল্পের স্ক্র্যাপ/অব্যবহৃত মালামাল বিক্রির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত; দোলনচাঁপা-কনকচাঁপা প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয়, ফ্ল্যাটের সংখ্যা ও বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ; গ্রাহক সেবা ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় দালালদের ভূমিকা তদন্ত।
জবাবদিহি কোথায়?
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমি ও প্রকল্প মূলত জনগণের সম্পদ। ফলে কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই জায়গায় থেকে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন কি না, কোনো রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল কি না—তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় তিনি আইন ও বিধিমালা মেনে চলেছেন কি না।
হারিজুর রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যে মামলা ও দুদকের তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ৭ একর সরকারি জমি এবং ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি গুরুতর এবং এর বিচারিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; আর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
সবশেষে প্রশ্ন একটাই—সরকারি জমি, জনগণের অর্থ ও আবাসন প্রকল্পের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এত অভিযোগ ওঠার পরও এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন, তাহলে নজরদারি ও জবাবদিহির দায়িত্বটি আসলে কার?
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—অভিযোগের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নথি, প্রমাণ ও তদন্তের ভিত্তিতে সত্য বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
Shamiur Rahman
