তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ৬ হাজার কোটি টাকা দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩৩ এএম

রবিবার অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর এই অর্থ বিপিডিবিকে ছাড় করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ঋণ (অপারেটিং লোন) খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ছয় হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দিয়েছে সরকার। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ফার্নেস অয়েল কেনা হবে।

রবিবার অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর এই অর্থ বিপিডিবিকে ছাড় করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ঋণ (অপারেটিং লোন) খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর করা সরকারি স্মারকে বলা হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে জ্বালানি কেনায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

ঋণটির বিপরীতে কোনো সুদ দিতে হবে না। বিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত ক্ষতির বিপরীতে সরকার এই অর্থ সমন্বয় করবে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ২১ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্যাস সরিয়ে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৩টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ৮৭ হাজার ৩৫০ টন ফার্নেস অয়েল কেনার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। বেসরকারি ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার ভিত্তিতে এই জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছয় লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল আমদানিতে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ সর্বোচ্চ ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত কমেছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এলএনজি আমদানিতে বিলম্বের কারণে গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছে সরকার। সরকারের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তে একদিকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, অন্যদিকে গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় শিল্প খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত