জনসচেতনতাই পারে একটি সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষিত জাতি গড়তে

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৫ পিএম

অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম তালুকদার

জনসচেতনতা একটি সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনের মূল চাবিকাঠি। সচেতন নাগরিক ছাড়া কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই সচেতনতার সূচনা হতে হবে পরিবার ও সমাজ থেকেই। তবেই দেশ পাবে সুশিক্ষিত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নাগরিক। ফলশ্রুতিতে দেশ হয়ে উঠবে সমৃদ্ধ এবং বিশ্বদরবারে অর্জন করবে সমাদৃত স্থান।

সুস্বাস্থ্য গঠনে জনসচেতনতা: স্বাস্থ্য সচেতনতার সম্যক ধারণা ও এর সঠিক প্রয়োগ, সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঠিক নিরূপণ ও যথাযথ চিকিৎসায় রোগমুক্ত সমাজ গড়তে সহায়তা করে।

​পুষ্টিজ্ঞান: কেবল চিকিৎসাই সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয় না। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার না খেলে অপুষ্টির শিকার হয়ে মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, ফলে জাতি পায় রুগ্ন নাগরিক। এমন নাগরিক দেশ গঠনে অবদান রাখার বদলে রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

​পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা: অনিরাপদ পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্নতা সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি, এমনকি গর্ভস্থ সন্তানের জন্মগত ত্রুটির অন্যতম কারণ। সঠিক পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার অভাবে সংক্রামক ব্যাধি মহামারীর রূপ নেয়।

মানসিক স্বাস্থ্য: বর্তমান সামাজিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপট অনেক ক্ষেত্রে মানসিক ব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে যুবসমাজ ও বিশাল জনগোষ্ঠী বিপথগামী হয়ে পড়বে।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও সুশিক্ষিত জাতি গঠন:

সুশিক্ষিত জাতি গঠনে যেমন সুস্বাস্থ্য দরকার, তেমনি সুস্বাস্থ্য অর্জনও সুশিক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। সুতরাং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে একটি মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতে হবে।

মানসম্মত শিক্ষা: প্রচলিত সনাতনী শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

কুসংস্কার দূরীকরণ: সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে হবে।

নৈতিকতা চর্চা: চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ও জনসচেতনতাই মানুষের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ব এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে পারে।

পরিশেষে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আমরা পাব একটি সুশিক্ষিত, স্বাবলম্বী, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত