রাজবাড়ী আখক্ষেতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার-১
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, স্ট্রোক করে নবীরন বেগমের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। এনিয়ে সাংবাদিকদের দূঢ়তা এবং সঠিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সত্য
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়ায় আখ ক্ষেতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু এবং লাশ গুমের চেষ্টায় প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধা (৩৫) কে ফরিদপুর হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০ গ্রেফতারকৃত রফিকুল ইসলাম হলো দৌলতদিয়া ৭ নং ওয়ার্ড আইনুদ্দিন প্রামানিকের পাড়ার মৃত জলিল মৃধার ছেলে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১০।
নিহত রওশন ওই এলাকার রহিম শেখের স্ত্রী এবং রাসেল শেখের মা। এদিকে, এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, স্ট্রোক করে নবীরন বেগমের মৃত্যু হয়েছে। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। এনিয়ে সাংবাদিকদের দূঢ়তা এবং সঠিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে সত্য।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার চর দৌলতদিয়া এলাকায় আইনুদ্দিন প্রামানিকের পাড়া নবিরন নেছা (৫৫) দরিদ্রতার কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও নিজেই বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতেন। বৃদ্ধা নারী বিকেলে বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করতে যায়। সন্ধ্যার পর বাড়ি না ফেরায় তার মেয়ে বাড়ির আশপাশ এবং সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে পাশের আখক্ষেতে থাকা প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধার জমির পানিতে মায়ের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার মেয়ে। আশপাশের লোকজনের সহায়তায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে পরের দিন সকালে দাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার। এক পর্যায়ে জানা যায় আখক্ষেতে চুরি ঠেকাতে অবৈধ বিদ্যুতস্পৃষ্টে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ নিয়ে এসে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা জমির আখক্ষেতের চারপাশে অবৈধভাবে জিআই তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করে রাখে। ওই তারের প্রবাহিত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে নবিরন মারা যায়। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা লাশ ধানক্ষেত থেকে টেনে আখক্ষেতে রাখে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের পাশে গর্ত খনন করে সেখানে লাশ রেখ জঙ্গল দিয়ে ঢেকে রাখেন।
Shamiur Rahman
