বেতন তো বাড়ল—এবার কি সরকারি সেবায় সততাও বাড়বে?
রাষ্ট্রের শক্তি শুধু কত টাকা বেতন দেয়, সেখানে নয়। রাষ্ট্রের শক্তি হলো—নাগরিক অধিকার পেতে ঘুষ দিতে হয় কি না, তরুণ মেধার বিনিময়ে কাজ পায় কি না, শ্রমিক শ্রমের ন্যায্য মূল্য পায় কি না, কৃষক উৎপাদনের ন্যায্য দাম পায় কি না এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের দরজায় গিয়ে সম্মান পায় কি না। বেতন বাড়ানো যেমন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত; তেমনি মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়।
নবম পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়ল; কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষ, বেসরকারি চাকরিজীবী ও বেকার তরুণদের জীবন কি একই সঙ্গে নিরাপদ হচ্ছে?
বেতন বাড়ল—এবার কি সরকারি সেবায় সততাও কি বাড়বে? প্রশ্নটি অস্বস্তিকর হলেও খুবই জরুরি। কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনগণের করের টাকা, রাষ্ট্রের ব্যয়, সরকারি সেবার মান এবং নাগরিকদের আস্থা। একজন সরকারি কর্মচারীর ন্যায্য ও মর্যাদাপূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকার আছে। দীর্ঘ সময় মূল্যস্ফীতির চাপে প্রকৃত আয় কমে গেলে বেতন পুনর্নির্ধারণ প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে—বেতন বাড়লেই নৈতিকতা বাড়ে না, ঘুষ কমে না, নাগরিকসেবা আপনাআপনি উন্নত হয় না। তাই নবম পে-স্কেলের প্রকৃত প্রশ্ন শুধু কত টাকা বেতন বাড়ল, তা নয়। প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্র কি আরও দক্ষ, সৎ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসন পাবে?
বেতন বাড়ল কতটা? ২০২৬ সালের নবম জাতীয় পে-স্কেলে ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০,০০০ টাকা—প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা—১০০ শতাংশ বৃদ্ধি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ এ কাঠামোর আওতায় আসবেন এবং অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। সরকারের যুক্তিও গ্রহণযোগ্য—২০১৫ সালের পর নতুন জাতীয় পে-স্কেল হয়নি; এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন: রাষ্ট্র কি শুধু সরকারি কর্মচারীর ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করবে, নাকি সব নাগরিকের ক্রয়ক্ষমতার কথাও ভাববে ???
নয়টি পে-স্কেল, কিন্তু সবার জন্য নয় - স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত নয়টি জাতীয় পে-স্কেল হয়েছে—১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৭, ২০০৫, ২০০৯, ২০১৫ এবং ২০২৬ সালে। ১৯৭৩ সালে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা। ১৯৭৭ সালে ২২৫, ১৯৮৫ সালে ৫০০, ১৯৯১ সালে ৯০০, ১৯৯৭ সালে ১,৫০০, ২০০৫ সালে ২,৪০০, ২০০৯ সালে ৪,১০০ এবং ২০১৫ সালে ৮,২৫০ টাকা। ২০২৬ সালে সেটি দাঁড়িয়েছে ২০,০০০ টাকায়। রাষ্ট্রের জন্য এটি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা। কিন্তু দেশের বিপুল শ্রমজীবী মানুষের জন্য এমন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো নেই। এখানেই পে-স্কেলের প্রশ্নটি বেতন থেকে সরে গিয়ে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পরিণত হয়।
সরকারি চাকরির মূল্য বাড়লে স্বচ্ছতাও বাড়াতে হবে - বাংলাদেশে সরকারি চাকরির আকর্ষণ শুধু বেতনে নয়। চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন, বিভিন্ন ভাতা, অবসর সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা—সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। ফলে সরকারি চাকরির আর্থিক মূল্য যত বাড়বে, এই চাকরির প্রতি প্রতিযোগিতাও তত বাড়বে। তাই একটি মৌলিক নীতি হওয়া উচিত— চাকরির মূল্য বাড়ানো হলে নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতার মূল্যও বাড়াতে হবে।
একটি পুরোনো TIB জরিপে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকারী পরিবারগুলোর ২২ শতাংশ দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩৫.৩ শতাংশ স্বজনপ্রীতি, ৩৩.৮ শতাংশ ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ এবং ১৪ শতাংশ রাজনৈতিক প্রভাবের কথা জানিয়েছিল। গড় ঘুষ বা অননুমোদিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬,৬১৯ টাকা। তথ্যটি পুরোনো; তাই ২০২৬ সালের বর্তমান হার হিসেবে নয়, বরং নিয়োগব্যবস্থার ঝুঁকির একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। আজ যখন সরকারি চাকরির আর্থিক মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি, তখন নিয়োগ থেকে পদোন্নতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে আরও বেশি স্বচ্ছ করা জরুরি।
বেতন বাড়লেই কি নৈতিকতা বাড়ে? এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভালো বেতন একজন কর্মচারীকে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করতে পারে। সংসারের আর্থিক চাপ কমাতে পারে। কিন্তু বেতন একজন মানুষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৎ করে না। দুর্নীতির সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈতিকতার পাশাপাশি জড়িয়ে থাকে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, দুর্বল জবাবদিহি এবং শাস্তির অনিশ্চয়তা।
TIB-এর ২০২৫ সালের জাতীয় গৃহস্থালি জরিপে ৮১.৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো সেবা খাতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে এবং ৬৩.৬ শতাংশ ঘুষ বা অননুমোদিত অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। আনুমানিক ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১২,৬৩৩.২ কোটি টাকা। ৯১.২ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। এই তথ্য দিয়ে সব সরকারি কর্মচারীকে অসৎ বলা যায় না। বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার চিত্র।
তাই নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে একটি ‘নৈতিক চুক্তি’ও প্রয়োজন: বেতন বাড়বে—কিন্তু সম্পদের হিসাব স্বচ্ছ হবে। বেতন বাড়বে—কিন্তু সেবার সময়সীমা নির্ধারিত হবে। বেতন বাড়বে—কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বেতন বাড়বে—কিন্তু পদোন্নতিতে দক্ষতা ও সততার মূল্য থাকবে। কারণ— বেতন মানুষকে স্বচ্ছল করতে পারে; কিন্তু নৈতিকতা করতে পারে না। ঘুষ না নেওয়ার জন্য ভালো বেতনের পাশাপাশি ঘুষ নেওয়ার সাহস না করার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দরকার।
আমলা-নির্ভর সুবিধা, নাকি নাগরিককেন্দ্রিক রাষ্ট্র? সরকারি কর্মচারীদের দাবি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি কোনো ষড়যন্ত্র নয়; রাষ্ট্রের কাঠামোগত বাস্তবতা। কিন্তু যে শ্রমিক সংগঠিত নন, যে রিকশাচালক নিজের দাবি নিয়ে সচিবালয়ে যেতে পারেন না, যে বেসরকারি চাকরিজীবীর জাতীয় পে-স্কেল নেই, যে কৃষক নিজের উৎপাদিত পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে পারেন না—তাদের কণ্ঠ রাষ্ট্রীয় নীতিতে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু যারা দাবি তুলতে পারেন তাদের কথা শোনা নয়; যারা দাবি তুলতে পারেন না, তাদের কথাও শোনা !
ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই - একদিকে সরকারি চাকরির বেতন বাড়ছে, অন্যদিকে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ চাকরির অপেক্ষায়। BBS-এর Labour Force Survey 2024 অনুযায়ী, দেশে ২৬.২৪ লাখ বেকারের মধ্যে ৮.৮৫ লাখই বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। স্নাতকদের বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ—সব শিক্ষা স্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। National University-এর স্নাতকদের ক্ষেত্রে বেকারত্ব প্রায় ২৮ শতাংশ বলে সরকারি নীতিগত নথিতে BBS-এর তথ্য উদ্ধৃত হয়েছে। এটি শুধু চাকরির সংকট নয়; শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের সংকেত। রাষ্ট্র যদি মেধাবী তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারে, তাহলে শুধু সরকারি চাকরির বেতন বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
বেসরকারি চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ - সরকারি কর্মচারীর জন্য জাতীয় পে-স্কেল আছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য একই ধরনের সর্বজনীন কাঠামো নেই। তাদের বেতন নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান, খাত, দক্ষতা ও নিয়োগকর্তার সক্ষমতার ওপর। কিন্তু বাজারে চালের দাম দেখে না কে সরকারি কর্মকর্তা আর কে বেসরকারি কর্মচারী। বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন—কোনোটিই পে-স্কেল দেখে বাড়ে না। আর দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, পোশাকশ্রমিক, গৃহকর্মী, হকার, পরিবহনশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তো কোনো জাতীয় পে-স্কেলই নেই। তাদের আয় বাড়ে শ্রমের চাহিদা ও বাজারের ওপর নির্ভর করে; কিন্তু মূল্যস্ফীতি সবার জন্য একই। তাই সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমজীবী ও বেসরকারি কর্মীদের প্রকৃত আয় ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নও রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রে আসতে হবে।
কৃষকের তো আর পে -স্কেল নাই তার জন্য কি ব্যবস্থা ? কৃষকের সমস্যাও একই। সার, বীজ, ডিজেল, সেচ ও শ্রমের খরচ বাড়ে; কিন্তু কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। তার ওপর সেবা পেতে দুর্নীতির অভিজ্ঞতাও রয়েছে। TIB-এর ২০২৫ জরিপে কৃষি খাতে ৬৪.৪ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে এবং ৪৯.৩ শতাংশ ঘুষ বা অননুমোদিত অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই কৃষকের আয় বাড়াতে শুধু উৎপাদন বাড়ানোর কথা বললে হবে না; কৃষি উপকরণের দাম, সরকারি সেবা, বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্য—সব একসঙ্গে দেখতে হবে।
বেতন বাড়ল—বাজার কি কমবে? সবচেয়ে বড় ভুল হবে বেতন বাড়াকে সরাসরি জীবনমান বাড়ার সঙ্গে সমান করা। জীবনমান নির্ভর করে ক্রয়ক্ষমতার ওপর। কারও আয় বাড়ল, কিন্তু খাদ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন ও বিদ্যুতের ব্যয় যদি আরও দ্রুত বাড়ে, তাহলে কাগজে আয় বাড়লেও বাস্তবে স্বস্তি নাও বাড়তে পারে। আর একটি সহজ অর্থনৈতিক সত্য মনে রাখা দরকার— মূল্যস্ফীতি কমেছে মানেই দাম কমেছে নয়।দাম বৃদ্ধির হার কমতে পারে; কিন্তু আগের উচ্চ দামে বাজার স্থির থাকতে পারে। তাই পে-স্কেলের সাফল্য মাপতে হবে শুধু বেতন কত বেড়েছে দিয়ে নয়; বরং সেই বেতন দিয়ে মানুষ আগের তুলনায় কতটা ভালোভাবে জীবন চালাতে পারছেন—তা দিয়ে।
নতুন-পুরোনো কর্মচারীর ভারসাম্য - নতুন পে-স্কেলে salary fixation, seniority, promotion ও career progression-ও গুরুত্বপূর্ণ। একজন কর্মচারী বহু বছর চাকরি করে যে বেতনস্তরে পৌঁছেছেন, একই পদে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ যদি তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসেন, তাহলে অভিজ্ঞতা ও seniority-এর মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই নতুন কাঠামোকে শুধু বেতন বৃদ্ধির হিসাব হিসেবে নয়, ন্যায্য ক্যারিয়ার কাঠামো হিসেবেও বাস্তবায়ন করতে হবে।
শেষ কথা: বেতন নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক মানদণ্ড বাড়ুক - সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন প্রয়োজন। কিন্তু বেতন বাড়ার সঙ্গে দায়িত্বও বাড়তে হবে; সুবিধা বাড়ার সঙ্গে জবাবদিহিও বাড়তে হবে; ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে নৈতিকতার মানদণ্ডও উঁচু হতে হবে।
জনগণের প্রশ্ন খুব সরল— আপনার বেতন বেড়েছে—কিন্তু আমার সেবা কি দ্রুত হয়েছে? আপনার আয় বেড়েছে—কিন্তু ঘুষ কি কমেছে? আপনার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে—কিন্তু মানুষের হয়রানি কি কমেছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— সরকারি চাকরি কি নাগরিককে সেবা করার দায়িত্ব, নাকি শুধু নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি চাকরি? নতুন পে-স্কেল যদি শুধু সরকারি কর্মচারীর আয় বাড়ায়, তাহলে এটি একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু যদি এর সঙ্গে সততা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিকসেবা বাড়ে—তাহলেই এটি রাষ্ট্রীয় সংস্কার। কারণ রাষ্ট্রের শক্তি শুধু কত টাকা বেতন দেয়, সেখানে নয়। রাষ্ট্রের শক্তি হলো—নাগরিক অধিকার পেতে ঘুষ দিতে হয় কি না, তরুণ মেধার বিনিময়ে কাজ পায় কি না, শ্রমিক শ্রমের ন্যায্য মূল্য পায় কি না, কৃষক উৎপাদনের ন্যায্য দাম পায় কি না এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের দরজায় গিয়ে সম্মান পায় কি না। বেতন বাড়ানো যেমন রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত; তেমনি মানুষের জীবনমান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়।
লেখক একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট, নীতি বিশ্লেষক ও উন্নয়ন কর্মী
Shamiur Rahman
