ত্রিমোহনীতে পুলিশের সোর্সের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৪৫ পিএম

জজ মিয়ার মাথা ও গলায় গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘাতকরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করেছে

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী এলাকায় জজ মিয়া নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে ত্রিমোহনী এলাকায় ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ব্রিজের নিচে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই করে মরদেহটির পরিচয় জজ মিয়া (৩০) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। জজ মিয়া পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করেছে। 

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জজ মিয়ার মাথা ও গলায় গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘাতকরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করেছে। 

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার আগের দিন থেকেই জজ মিয়ার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা বা সোর্সের কাজ সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জজ মিয়া এলাকার মাদক কারবার, ছিনতাই বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পুলিশকে দিতেন। অপরাধী চক্রের কোনো বড় চাল বা গোপন আস্তানা সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে চরম প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জজ মিয়াকে অন্য কোনো স্থানে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর রাতের আঁধারে ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে মরদেহ ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা। সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, খিলগাঁও থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও জজ মিয়ার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পর্যালোচনার কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিহত জজ মিয়া ডিবির সোর্স হিসেবে অপরাধীদের তথ্য পুলিশকে সরবরাহ করতেন। কোনো মাদক চক্র বা অপরাধী চক্রের তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। 

একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, খিলগাঁও, ত্রিমোহনী ও সংলগ্ন বালু নদ এলাকা চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনার অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় কোনো শীর্ষ মাদক চক্রের নজরে পড়ে যাওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া, সোর্স পরিচয়ের বাইরেও নিহতের সাথে অন্য কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা আর্থিক লেনদেন নিয়ে বড় ধরনের কোনো বিরোধ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত