উত্তাল পদ্মায় ট্রলার-স্পিডবোটই যাত্রীদের ভরসা

নেহাল আহমেদ প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৮ পিএম

গত ২৩ জুলাই থেকে ‘কপোতী’ নামের ফেরিটি বন্ধ রয়েছে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ক্যামেলিয়া নামের ফেরিটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়

রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথে অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। ফেরি বন্ধ থাকায় এই পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরকে ঝুঁকি নিয়েই ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং স্পীডবোটে উত্তাল পদ্মা পারি দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফেরি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে বাড়ানো হয়েছে ট্রলার ও স্পিডবোটের ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া আর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘কপোতী’ নামে দুইটি ফেরি চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ গড়ে প্রতিদিন ৪০টি যানবাহন ধাওয়াপাড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। নাজিরগঞ্জ থেকে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবহন রাজবাড়ীর দিকে আসে।

গত ২৩ জুলাই থেকে ‘কপোতী’ নামের ফেরিটি বন্ধ রয়েছে। তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ক্যামেলিয়া নামের ফেরিটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় এই রুটে চলাচলকৃত যানবাহনগুলোকে কুষ্টিয়ার লালন শাহ সেতু ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে অর্থের পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার দূরেই ধাওয়া পাড়া ঘাট। ঘাটের পন্টুনের সঙ্গে ‘ক্যামেলীয়া’ নামে ফেরিটি মোটা রশি দিয়ে বাধা রয়েছে। ঘাটে স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে যাত্রী পাড়াপার করা হচ্ছে। ঘাটে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। যাত্রীর পাশাপাশি মোটর সাইকেলসহ কিছু পণ্য পরিবহন করতে দেখা গেছে। স্পিডবোটে চলাচলরত কিছু যাত্রীর শরীরে লাইফ জ্যাকেট দেখা গেলেও ট্রলারের কোন যাত্রীর শরীরে লাইফ জ্যাকেট চোখে পরেনি।

ট্রলারের সামনেই একটি কাঠের টেবিল নিয়ে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে ছাপানো টিকিটের উপর ট্রলার ভাড়া ৮০ টাকা, স্পিড বোডের ভাড়া ১৫০ টাকা লেখা রয়েছে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল পারাপারে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা।

ট্রলারে অপেক্ষামান যাত্রীরা জানান, এই রুটে সাধারণত ফেরিতে একজন যাত্রীর ভাড়া ৩০ টাকা। ট্রলারের ভাড়া ৫০ টাকা ও স্পিডবোটের ভাড়া ১০০ টাকা। কিন্ত ট্রলারে যাত্রীপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা, স্পিডবোটে নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা ও মোটসাইকেলের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া তাদেরকে ট্রলারে উঠা বাবদ আরও ৫ টাকা দিতে হচ্ছে।

উজ্জল রায় নামে এক যাত্রী বলেন, সপ্তাহখানেক আগে আমি ‘এই ঘাট দিয়েই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আজ বাড়িতে ফিরছি। কিন্তু ফেরি বন্ধ। ট্রলারে করেই যেতে হচ্ছে। আজ ভাড়া নিয়েছে ৮০ টাকা। ৫ টাকা ঘাট বাবদ দিতে হয়েছে। এমনি সময় ট্রলারে ভাড়া নেয় ৫০ টাকা। আজ নিয়েছে আশি টাকা। ফেরি চালু থাকলে এর অর্ধেক ভাড়া লাগত। আবার এত ভোগান্তিও থাকতো না।’

হাসেন মন্ডল নামে অপর এক যাত্রী বলেন, ‘ওপার থেকে আসলাম ৫০ টাকা দিয়ে, এখন লাগছে ৮০ টাকা। ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভাড়া বৃদ্ধি হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’

স্নেহা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ট্রলারে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু এভাবে যাতায়াত করা আমাদের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। ফেরিতে যাতায়াত করা অনেকটা নিরাপদ। এই রুটে ভালো মানের ফেরি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটের চালকদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান স্রোতের কারণে নদী পার হতে সময় বেশি লাগছে। একারণে তাদের তেল বেশি লাগছে। এছাড়া বাজারে তেলের দাম অনেক বেড়েছে। সেই কারণে ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, এই নৌরুটে দুটি ফেরি চলাচল করে। দিনে চারবার পাবনার নাজিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ফেরি ছেড়ে যেত। তীব্র স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন ওভারহিট হয়। এভাবে চালালে যেকোন সময় বিপদ ঘটতে পারে। এই কারণে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ফেরি বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েছেন ট্রলার ও স্পিডবোটের চালকেরা। তবে এগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। যত দ্রুত সম্ভব ফেরি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত