দ্য ফিন্যান্স টুডে'র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
প্রধানমন্ত্রীর ১৮০ দিনের কর্মসূচির পুরস্কার আমি পাবো ইনশাআল্লাহ
একজন জনপ্রতিনিধি যে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ
যা কথা, তাই কাজ। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি ।
মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সাদামাটা জীবনযাপনের মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। ক্ষমতার দূরত্ব তৈরি না করে মানুষের কথা শোনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় বাড়ছে তার প্রতি মানুষের আস্থা।
জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একজন জনপ্রতিনিধি যে অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
যা কথা, তাই কাজ—এই প্রত্যয়ে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক প্রতিরোধ, রাস্তা-ঘাট, কালবার্ট-ব্রিজ, বেকারত্ব দূরীকরণ, বেড়িবাধ নির্মাণ, মাদ্রাসা-মসজিদে অনুদান এবং পর্যটন করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন জননেতা সুলতান। ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে ডিসি লেক এর কচুরিপানা পরিষ্কার করেছেন। সেখানে মিনি পর্যটন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল সদরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, সকলের প্রিয় বন্ধুও।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক থেকে ভোক্তা, সব পর্যায়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন।
খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ, কোরবানির ঈদে দেশীয় পশুর চাহিদা পূরণ, ন্যায্যমূল্যে প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ, চিড়িয়াখানার আধুনিকায়ন, দেশীয় ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং মৎস্য রপ্তানি বাড়াতে নানা উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
গত ১৪ আগস্ট রাতে গুলশানে নিজ বাসভবনে দেশের আলোচিত অনুসন্ধানী গনমাধ্যম 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারের এসব প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র নির্বাহী সম্পাদক শাহীন আবদুল বারী।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: সরকার ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হচ্ছে। এই ছয় মাসে আপনাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কিছু বলুন
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা শতভাগ কাজ করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শত ভাগ ছাড়িয়ে গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: নিরাপধ খাদ্য মানুষের কাঝে পৌছে দেওয়ার জন্য আপনাদের পদক্ষেপ নিয়ে কিছু বলুন।
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: নিরাপদ খাদ্য এবং খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে খামারি, উদ্যোক্তা ও উৎপাদকদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগ মুক্ত খাবার যাতে আমার মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারি এর জন্য পদক্ষেপ নিয়েছি। এবং পরামর্শ দিয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তি, দেশীয় ভ্যাকসিন, উন্নত পশুখাদ্য, আধুনিক প্রসেসিং সেন্টার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে টেকসই খাতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: দায়িত্ব নেওয়ার পর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনারা প্রথম কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: প্রথম পদক্ষেপটা আমরা নিয়েছি সামগ্রিক খাদ্যের মান নিশ্চয় নিশ্চিত করা। এজন্য খামারি, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে মতবিনিময় করেছি একাধিকবার। এবং এদেরকে সার্বিক দিক নির্দেশনা দেওয়া দেওয়া হয়েছে যাতে করে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। এবং ভোক্তাদেরকে আমরা রোগমুক্ত, নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দিতে পারি সেই ব্যাপারে সার্বিক পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: সরকার গঠনের পর প্রথমে রমজান এবং পরে কুরবানির ঈদের গবাদি পশু নিয়ে আপনাদের ভালো কিছু পদক্ষেপ ছিল এ বিষয়ে কিছু বলুন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: ন্যায্যমূল্যে প্রাণিজ আমিষজাতীয় খাদ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ঢাকায় ৩৬টি জায়গাসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ন্যায্যমূল্যে হাঁস, মুরগি, ডিম, দুধ ও গরুর মাংস বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখের অধিক পরিবারের কাছে এসব পণ্য পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এবার দেশের মানুষ দেশীয় গরু দিয়ে কোরবানি করতে পেরেছেন। খামারিরাও ন্যায্য দাম পেয়েছেন এবং ক্রেতারাও সহনীয় মূল্যে পশু কিনতে পেরেছেন। এতে উভয় পক্ষই স্বস্তিভোধ করেছি এবং খুশি হয়েছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: ভ্যাকসিন উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, এটা নিয়ে বলুন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: সম্প্রতি দুটি ভ্যাকসিন আমাদের বৈজ্ঞানিকরা বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন। এগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে এসব ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন দেশে উৎপাদনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: কোরবানির হাটে পশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা ছিল?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: এবারের কোরবানির ঈদে প্রত্যেক হাটে আমাদের ভেটেরিনারি ডাক্তার দিয়ে মানুষের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছি। পশু চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: চিড়িয়াখানার আধুনিকায়নে কী অগ্রগতি আছে?
সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু: চিড়িয়াখানাকে আধুনিক করার ব্যাপারে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এর মান আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দর্শনার্থীর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। ঈদের ছুটির কোনো কোনো বন্ধের দিনে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার দর্শনার্থীও চিড়িয়াখানায় এসেছেন।
এছাড়া নতুন চারটি প্রাণী সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পুরুষ ওয়াইল্ডবিস্ট এবং দুটি কমন ইল্যান্ড রয়েছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও তিনটি নতুন বাচ্চা হয়েছে। এগুলোর বয়স চার মাসের বেশি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের চিড়িয়াখানা করার লক্ষ্যে আমাদের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং অধিকাংশ কাজই শেষের দিকে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: জেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা কী করা হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নতুন ভবন উদ্ভোধন করেছি। অধিকাংশ জেলাতেই জেলা অফিসের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বা শেষের পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: আমরা ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার উদ্বোধন করেছি। কীভাবে গরুর মাংস রপ্তানি করা যায়, সে ব্যাপারেও কাজ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলায় আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি নিজে বগুড়ায় গিয়ে একটি কেন্দ্র উদ্বোধন করেছি। সারা দেশে আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে কাজ চলছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: গবাদিপশুর খাদ্য ও ঘাস উৎপাদনে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি নতুন জাতের ঘাস দেশে আনা হয়েছে। প্রায় ৮৫০ জন খামারিকে এ ঘাস উৎপাদনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গরুর মাংস ও দুধের উৎপাদন বাড়বে, গরুর প্রোটিনের চাহিতে পুরন হবে, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং মাংসের পরিমাণও বাড়বে। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে বাইরের ফিডের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। পরিবর্তিতে আরও কম দামে ভোক্তাদের কাছে গরুর মাংস পৌঁছে দেওয়া যায় সেই ব্যাপারে আমরা পদেক্ষেপ নিচ্ছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: নতুন চিড়িয়াখানা স্থাপনের পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ময়মনসিংহ ও বরিশালে নতুন চিড়িয়াখানা করার ব্যাপারে আমাদের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ফিজিবিলিটি স্টাডিও করা হয়েছে। কাজগুলো চলমান রয়েছে। দ্রুত এগুলো শেষ করার ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: আহত হাতিদের উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: দুটি হাতি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো এবং রাস্তায় আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। আমরা হাতি দুটি নিয়ে এসেছি এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: কুমির খামার ও কুমির রপ্তানির বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু: আমরা কুমির খামারগুলো পরিদর্শন করেছি এবং খামারিদের সঙ্গে কথা বলেছি। কুমির কীভাবে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলমান আছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: এবার মৎস্য খাতে বিশেষ কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: জাটকা নিধন বন্ধে আমরা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি। জাটকা ধরা বন্ধ রাখার সময়ে জেলেদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম আমরা প্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে জেলেদের খাদ্যসহায়তা দিয়েছি। এ সময়ে জেলেদের পরিবারপ্রতি ৮০ কেজি চাল, ১০ কেজি তেল, ১৬ কেজি আলু, ১২ কেজি আটা ও ৮ কেজি লবণ বিতরণ করা হচ্ছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাই।
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: সারা দেশের নদী-নালা, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করেছি। আমাদের নীতি হচ্ছে—‘জাল যার, জলা তার’। এই নীতির ভিত্তিতেই আমরা মাছ অবমুক্ত করছি, যাতে প্রকৃত জেলেরা এর সুফল পান।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: কাপ্তাই লেকে কত মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: কাপ্তাই লেকে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: চলনবিল এলাকায় ফিড প্রসেসিং সেন্টার করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে মাছ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আমি নিজে সেখানে সাইট ভিজিট করেছি এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাছ উৎপাদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মৎস্যের প্রায় ৪০ শতাংশ চাহিদা ওই এলাকা থেকে পূরণ হয়। সেখানেও একটি ফিড প্রসেসিং সেন্টার কীভাবে করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: ভেনামি চিংড়ি বিশ্বের চিংড়ি উৎপাদনের বড় একটি অংশ দখল করে আছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৬-১৭ বছর ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন বন্ধ ছিল। আমরা আবার এটি নতুনভাবে চালু করেছি এবং উৎপাদন বাড়ানোর কাজ করছি। আশা করছি, এর মাধ্যমে দেশে চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি দুটিই বৃদ্ধি পাবে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: ঐতিহাসিক গোয়াল ফার্ম প্রায় বিলুপ্তির পথে। এটা নিয়ে আপনাদের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: দীর্ঘদিনের অবহেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে ঐতিহাসিক গোয়াল ফার্ম প্রায় বিলুপ্তির পথে। সরকার সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ফার্মটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং গবাদিপশুর উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া গয়াল প্রজাতির গুরু আমরা সামনে আনতে চাচ্ছি। গয়ালের মাংস খুবই টেষ্টি ও শরীরের জন্য উপকারী, চর্বি কম।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: পাঙ্গাস মাছ নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলছিলেন, এর আগ্রগতি বলবেন?
সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু: বড় পাঙ্গাস তৈরি কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমরা ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে যাতে রোগ মুক্ত থাকবে। এছাড়া আমরা কিভাবে স্যামন ফিস উৎপাদক করতে পারি এটা নিয়েও কাজ চলছে। নরওয়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইতোমধ্যে আমরা মিটিং করেছি।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: বিগত দিনে অনিয়ম-দূর্নীতি নিয়ে কোনো তদন্ত করেছেন কিনা ?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: বিগত ১৭ বছরে যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না ।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: টাঙ্গাইল সদরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আপনি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: প্রতিবেশী দেশগুলো বিভিন্নভাবে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ করিয়ে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়। আশপাশের দেশগুলো থেকেই এসব মাদক প্রবেশ করছে। তারা চায় আমাদের দেশ দুর্বল হয়ে যাক, পঙ্গু হয়ে যাক। তাই যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনোভাবেই টাঙ্গাইল সদরে মাদক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা মাদককে না বলব। আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত যুবসমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।আমরা মাদকমুক্ত, কিশোর গ্যাংমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও নিরাপদ টাঙ্গাইল চাই। নির্বাচনের আগে যা বলেছি, এখনও সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও একই পথে থাকব।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: টাঙ্গাইল ক্রীড়া ঐতিহ্য নামে পরিচিত। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়ানগরী বলা হতো। এখান থেকে বহু খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন। সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করা হয়ে ছিলো। এই খেলার অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আমি আশা করি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তালিকায় টাঙ্গাইলকে শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে আসা হবে ইনশাআল্লাহ।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কি ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং ভবিষ্যতে একাধিক পেশায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সেই লক্ষ্যেও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করতে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা পরে ডিগ্রি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি কার্যক্রমও চালু করেছে। কাজেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। ধীরে ধীরে সব পর্যায়েই হবে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: আপনি ভোটের আগে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন এমপি হলে টাঙ্গাইল সদর হবে উন্নয়নের মডেল শহর। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আপনি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। মানুষের ভোটের কালি মোছার আগেই আমার ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে।কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সচল রাখা এবং শুকনো মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে খাল খনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূলের কৃষকদের আরও স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। টাঙ্গাইল জেলার যেসব খাল ভরাট হয়ে গেছে বা মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে খনন করা হবে। এতে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাত উপকৃত হবে।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: টাঙ্গাইলের উন্নয়নে সার্বক্ষণিক ভাবনায় আপনার করণীয় কি?
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: টাঙ্গাইলে কৃষকের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান "কৃষি কার্ড" উদ্বোধন করেছেন। জনগণের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি অবিরাম। আমার কাছে ভিড়তে কোন টিকিট বা অনুমতির প্রয়োজন হয়না সাধারণ মানুষের। রাত-বিরেতেও আমার সাথে দেখা করে দুঃখ দুর্দশা এবং সমস্যার কথা জানাতে পারে টাঙ্গাইল সদর সহ দেশের সব জেলার মানুষ। নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইল। পূরণ হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন। সরকারের ১৮০ দিনে সদরের উন্নয়ন তথা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছি। সকলের সহযোগীতা থাকলে আগামী পাঁচ বছরে সকল প্রতিশ্রুতি পুরনে সফল হবো। প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের যে কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে ছিলেন তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী থেকে পূণ্য মন্ত্রী হিসেবে পুরুস্কার পাবো ইনশাআল্লাহ।
দ্য ফিন্যান্স টুডে: শত ব্যস্ততার মাঝেও 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'কে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু: আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ।
টাঙ্গাইল সদরের সর্বস্তরের মানুষের বক্তব্য
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নির্বাচনের আগে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি টাঙ্গাইল থেকে মাদক, সন্ত্রাস,দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার নির্দেশে কিশোরগ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। এক সময় টাঙ্গাইল ছিল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, দখলবাজি আর আগ্নেয়াস্ত্রের ঝনঝনানী। সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি ছিল টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ পুরো জেলার ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। অতীতের সেসব স্মৃতি এখনো কাঁদায় শান্তি প্রিয় মানুষকে। বিশেষ করে সদরের মানুষ অভিবাবকশূন্য হয়ে পড়েছিল। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে পেয়ে মানুষের মাঝে আস্থা ফিরে এসেছে। তাকে দিয়েই উন্নয়নের পাশপাশি মাদক, দখল ও চাঁদবাজি সহ সকল অপরাধ ও অন্যায়ের অবসান হবে। এমন প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষের।
নির্বাচনের আগে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সদরের মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরমধ্যে অন্যতম ছিল বিশেষ করে চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, বেড়িবাধ, মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যপক উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে অগ্রাধিকার ছিলো বেঁড়িবাঁধ নির্মান। একই সাথে বেঁড়িবাঁধকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী গড়ে তোলা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় গুলোতে যোগাযোগ করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ক্রমান্বয়ে টুকুর পরিশ্রম ও চেষ্টায় সবগুলো প্রতিশ্রুতি সফল হবে বলে টাঙ্গাইল সদরের মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।
Shamiur Rahman
