২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৫ পিএম

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৫৫টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের (জোটের) প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তারমধ্যে ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্যরা দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন নির্বাচনি কর্তা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে এই সম্মাননা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাওনাই ছিলো। বিএনপির সবচেয়ে কঠিন সময়ে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই নানা ধরনের ঝড়-ঝাপটা মোকাবেলা করে এগিয়ে গেছে। দলের জন্য তিনি শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাই নন, মীর্জা ফখরুল একই সাথে জিয়া পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সহযোগীও বটে।

অনেক ঝানু রাজনীতিবিদদের ডিঙিয়ে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির মহাসচিব বানিয়েছিলেন। তিনিও বেগম জিয়ার সেই বিশস্ততার পরিচয় দিয়ে গেছেন হাসিনার ফ্যাসিবাদি শাসনামলের দীর্ঘ সময়ে।

এসময় তিনি কখনো দলের নীতি এবং চেয়ারপারসনের কথার বাইরে যাননি। তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন, বেগম জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পুরো সময় তিনিই বিএনপিকে আগলে রেখেছিলেন নানা ঝড়-ঝাপটা থেকে। একসূতোয় গেথেছিলেন নেতাকর্মীদের। তার শ্রম, প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতার কারণেই দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্রের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছিলো বিএনপির ভাঙন।

ল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। একই সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির এই মহাসচিব বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসেবে গণমাধ্যমে তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত