‘‘একটি এনআইডি, নাগরিকের প্রাপ্য‘’
‘‘মধ্যস্বত্বভোগী নয়, যার যা অধিকার—তা সরাসরি পৌঁছাক নাগরিকের হাতে"
এনআইডি হবে নাগরিকের পরিচয়ের ভিত্তি। সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করবে সেবার তথ্য ও প্রাপ্যতা। মোবাইল হবে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিজিটাল আর্থিক সেবা হবে অর্থ পৌঁছানোর পথ
বাংলাদেশে একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিচয়কে আমরা কতটা কার্যকরভাবে নাগরিকসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছি? বাস্তবতা হলো, একজন নাগরিকের পরিচয়ের তথ্য এক জায়গায়, কৃষিসেবার তথ্য আরেক জায়গায়, সামাজিক নিরাপত্তার তথ্য অন্য কোনো ব্যবস্থায়। ব্যাংক হিসাব আলাদা, বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আলাদা তালিকাভুক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে একই নাগরিককে রাষ্ট্রের কাছে বারবার নিজের পরিচয়, প্রয়োজন ও অধিকার প্রমাণ করতে হয়। এই বিচ্ছিন্নতার একটি বড় খরচ আছে। আর সেই খরচ শুধু সময় বা অর্থের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মধ্যস্বত্বভোগী সংস্কৃতি।
কোথাও তালিকায় নাম তোলা, কোথাও ভাতা পাইয়ে দেওয়া, কোথাও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, কোথাও সরকারি সহায়তার সুযোগ করে দেওয়া—এসব কাজে নাগরিককে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, দালাল কিংবা জনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান কারও ওপর নির্ভর করতে হয়। রাষ্ট্রের দেওয়া সুবিধা তখন অনেক সময় নাগরিকের অধিকার না হয়ে ‘অনুগ্রহ’ বলে মনে হয়।
এই সংস্কৃতি বদলাতে হলে তাই একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনতে হবে: এনআইডি কি শুধু পরিচয়পত্র হিসেবেই থাকবে, নাকি এটিকে নাগরিকের রাষ্ট্রীয় সেবা ও প্রাপ্যতার মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে? আমার প্রস্তাবটি সরল—একজন নাগরিক, একটি অভিন্ন ডিজিটাল পরিচয়; আর সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে যার যে প্রাপ্য, তা সরাসরি তার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আলাদা কার্ড নয়, সমন্বিত নাগরিক পরিচয়
বাংলাদেশে কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য ফ্যামিলি কার্ড-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি, কৃষিসেবা সহজ করা এবং সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত করার প্রয়োজন দীর্ঘদিনের।
তবে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ভাবতে হবে, প্রতিটি সেবার জন্য কি আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ? বরং এনআইডিকে মূল নাগরিক পরিচয় হিসেবে রেখে বিভিন্ন সেবাকে তার সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, সেটিই হওয়া উচিত বড় প্রশ্ন।
প্রয়োজন হলে কৃষক বা পরিবারভিত্তিক কার্ড নির্দিষ্ট সেবার ইন্টারফেস হিসেবে থাকতে পারে। কিন্তু নাগরিকের মৌলিক পরিচয় একাধিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে—এনআইডি হবে নাগরিকের পরিচয়ের ভিত্তি, সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হবে সেবা ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র, আর ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হবে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। এতে নাগরিককে প্রতিটি সরকারি কর্মসূচির দরজায় নতুন করে পরিচয় নিয়ে দাঁড়াতে হবে না।
কৃষকের প্রাপ্য কৃষকের হাতেই
একজন কৃষকের এনআইডি-এর সঙ্গে তাঁর কৃষক পরিচয়, জমি, ফসলের ধরন, প্রয়োজনীয় কৃষি-তথ্য এবং ব্যাংক হিসাব নিরাপদভাবে যুক্ত আছে—এমন একটি ব্যবস্থা কল্পনা করা যাক। সরকার সার, বীজ, কৃষি প্রণোদনা বা কৃষিঋণের কোনো সুবিধা দিলে কৃষক নিজেই জানতে পারবেন তিনি কী পাওয়ার যোগ্য এবং কতটুকু পাওয়ার কথা। সার নিতে গেলে অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে এনআইডি যাচাই হবে। প্রণোদনার অর্থ হলে তা সরাসরি তাঁর ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।
কৃষককে কারও কাছে গিয়ে বলতে হবে না—‘আমার নামটা তালিকায় তুলে দেন।’ এখানেই ডিজিটাল ব্যবস্থার আসল শক্তি। এটি শুধু অনিয়মের সুযোগ কমাবে না; কৃষককে তাঁর নিজের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করবে। তিনি জানতে পারবেন, রাষ্ট্র তাঁর জন্য কী বরাদ্দ করেছে এবং তিনি বাস্তবে কতটুকু পেয়েছেন। অর্থাৎ তথ্য থাকবে নাগরিকের কাছেও, শুধু সরকারি দপ্তরের কম্পিউটারে নয়।
শ্রমিকের মজুরি, পরিবারের ভাতা—সবই সরাসরি
একই ব্যবস্থা শ্রমিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। ধরা যাক, একজন শ্রমিক সরকারি কোনো প্রকল্পে কাজ করলেন। তাঁর উপস্থিতি ও মজুরি এনআইডি-ভিত্তিক ব্যবস্থায় রেকর্ড হলো। কাজ শেষ হলে নির্ধারিত মজুরি সরাসরি তাঁর ব্যাংক হিসাব বা অনুমোদিত ডিজিটাল ওয়ালেটে চলে গেল। একটি পরিবারের ক্ষেত্রেও ব্যক্তির প্রাপ্যতা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
পরিবারের একজন সদস্য বয়স্ক ভাতার যোগ্য হলে তাঁর প্রাপ্য, কোনো সন্তান উপবৃত্তির যোগ্য হলে তার প্রাপ্য, পরিবারের কৃষক সদস্য কৃষি সহায়তার যোগ্য হলে তাঁর প্রাপ্য—সবকিছু একই নাগরিক পরিচয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি: পরিবারের তথ্য সমন্বিত হতে পারে, কিন্তু অধিকার ও প্রাপ্যতা ব্যক্তিভিত্তিক হওয়া উচিত। তাহলে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার জন্য নাগরিককে কারও ‘লোক’ হতে হবে না। তাঁকে শুধু তাঁর অধিকারী হতে হবে।
প্রযুক্তি আছে, এখন দরকার সমন্বয়
এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। দেশে ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল আর্থিক সেবার একটি বিস্তৃত অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নো-ফ্রিল একাউন্ট-এর মতো উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই অবকাঠামোগুলোকে নাগরিকসেবার সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়। বিকাশ, নগদ, উপায়সহ অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবা এবং সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোন—নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে এগুলো ব্যবহার করে নাগরিকের হাতে রাষ্ট্রীয় সেবার একটি সহজ ডিজিটাল দরজা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একজন কৃষক তাঁর মোবাইলে দেখতে পারবেন—তাঁর নামে কোনো সরকারি সহায়তা বরাদ্দ হয়েছে কি না, কতটুকু পাওয়ার কথা এবং অর্থ কখন তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে। শ্রমিক দেখতে পারবেন তাঁর মজুরি। পরিবার জানতে পারবে ভাতা বা উপবৃত্তির অবস্থা।
এনআইডি হবে পরিচয়ের ভিত্তি, মোবাইল হবে সেবা জানার ও গ্রহণের সহজ মাধ্যম, আর ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিজিটাল আর্থিক সেবা হবে অর্থ পৌঁছানোর পথ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করতে গিয়ে প্রযুক্তিহীন মানুষকে বাদ দেওয়া যাবে না। যাঁদের স্মার্টফোন নেই, তাঁদের জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক, এজেন্ট ব্যাংকিং, ডাকঘর বা নির্ধারিত সরকারি সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থা হবে সর্বজনীন, কিন্তু ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি করা যাবে না।
১০ টাকার হিসাব থেকে যে শিক্ষা
প্রান্তিক মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ টাকার নো-ফ্রিল একাউন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। অল্প অর্থে ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ তৈরি করে এই উদ্যোগ দেখিয়েছিল, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দরজা খুলতে সবসময় বড় অঙ্কের টাকা প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় সঠিক নকশা ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। সেই অভিজ্ঞতাকে এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যায়।
একজন কৃষকের এনআইডি, কৃষক পরিচয় এবং ব্যাংক বা অনুমোদিত ডিজিটাল হিসাব যদি একটি নিরাপদ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। তখন কৃষকের ব্যাংক হিসাব শুধু টাকা রাখার জায়গা থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে তাঁর কৃষি অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
শুধু অনলাইন নয়, অফ লাইনেও ব্যবস্থা থাকতে হবে
বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু অনলাইন ব্যবস্থা দিয়ে নাগরিকসেবা পরিচালনা করা যাবে না। কোনো এলাকায় ইন্টারনেট নেই, বিদ্যুৎ নেই কিংবা কেন্দ্রীয় সার্ভার সাময়িকভাবে অচল—এই কারণে নাগরিকের অধিকার আটকে থাকতে পারে না। তাই এনআইডি ভিত্তিক সেবাব্যবস্থাকে অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
নিরাপদ ও অনুমোদিত ডিভাইসে এনআইডি বা বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে; সংযোগ ফিরে এলে তা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত হবে। প্রযুক্তির আসল সাফল্য এখানেই—প্রযুক্তি যেন নাগরিককে আরও একটি অফিসে না পাঠায়; বরং অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনই কমিয়ে দেয়।
সরকারও থাকবে জবাবদিহির মধ্যে
এনআইডি-ভিত্তিক সমন্বিত ব্যবস্থার সুবিধা শুধু নাগরিকের জন্য নয়; সরকারের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। কোন কৃষক কত সার পেলেন, কোন শ্রমিক কত মজুরি পেলেন, কোন পরিবার কত সহায়তা পেল—এসবের নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড থাকলে সরকারি অর্থের প্রবাহ সহজে যাচাই ও অডিট করা সম্ভব হবে। তখন ‘টাকা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মানুষ পায়নি’, ‘তালিকায় নাম ছিল না’ কিংবা ‘মাঝখানে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে’—এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। রাষ্ট্রও তখন নাগরিকের কাছে আরও স্পষ্টভাবে জবাব দিতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ ডিজিটাল ব্যবস্থা শুধু মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমাবে না; রাষ্ট্রের নিজের জবাবদিহিও বাড়াবে। তবে এর পাশাপাশি সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর একটি হলো নাগরিকের তথ্যের নিরাপত্তা।
এনআইডি-ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সেবা কখনও এমন একটি কেন্দ্রীভূত নজরদারি ব্যবস্থায় পরিণত হওয়া উচিত নয়, যেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করতে পারবে। তথ্যের মালিকানা, ব্যবহার, সংরক্ষণ, প্রবেশাধিকার, সম্মতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অভিযোগ প্রতিকারের বিষয়ে স্পষ্ট আইন ও কঠোর সুরক্ষা থাকতে হবে। নাগরিকের সুবিধার জন্য তৈরি ডিজিটাল রাষ্ট্র যেন নাগরিকের ওপর নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে—এই ভারসাম্যটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নটি প্রযুক্তির নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছার
বাংলাদেশের হাতে এখন প্রযুক্তি আছে, এনআইডি আছে, ব্যাংকিং অবকাঠামো আছে, মোবাইল আর্থিক সেবা আছে এবং বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেস পরিচালনার অভিজ্ঞতাও আছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগও একটি সমন্বিত নাগরিকসেবা কাঠামোর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। এখন প্রয়োজন বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একটি বৃহত্তর জাতীয় কাঠামোর মধ্যে আনা।
প্রতিটি নতুন সেবার জন্য নতুন কার্ড তৈরি করে নাগরিককে কার্ডের ভারে ভারাক্রান্ত করার বদলে আমাদের ভাবতে হবে—কীভাবে একটি অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সেবা যুক্ত করা যায়।
এনআইডি হবে নাগরিকের পরিচয়ের ভিত্তি। সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করবে সেবার তথ্য ও প্রাপ্যতা। মোবাইল হবে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিজিটাল আর্থিক সেবা হবে অর্থ পৌঁছানোর পথ।
আর পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকবে একটি সহজ নীতি: যার যা প্রাপ্য, তা যেন সে-ই পায়। এটি শুধু ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সংস্কার নয়। এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কেরও সংস্কার। কৃষককে তাঁর পাওনা পেতে কারও সুপারিশ লাগবে না। শ্রমিককে মজুরি পেতে কাউকে ধরতে হবে না। পরিবারের ভাতা পেতে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। নাগরিককে রাষ্ট্রের কাছে নিজের অধিকার ভিক্ষা চাইতে হবে না। রাষ্ট্র জানবে নাগরিক কে। নাগরিক জানবেন রাষ্ট্রের কাছে তাঁর প্রাপ্য কী। আর সেই প্রাপ্য পৌঁছে যাবে সরাসরি তাঁর কাছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য তখনই হবে, যখন প্রযুক্তি শুধু মানুষের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেবে না—রাষ্ট্রীয় সেবার দরজাটিও সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেবে।
একটি এনআইডি, একজন নাগরিক, একাধিক অধিকার—মধ্যস্বত্বভোগীকে পাশ কাটিয়ে এভাবেই গড়ে উঠতে পারে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিককেন্দ্রিক বাংলাদেশ।
লেখক একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট, নীতি বিশ্লেষক ও উন্নয়নকর্মী
Shamiur Rahman
