কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা, সাংবাদিকদের ক্ষোভ
বলাকায় সাংবাদিক প্রবেশে দুই দিনের নিষেধাজ্ঞা
বলাকা ভবনের একাধিক সূত্র আশংকা করছে, প্রশাসনের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা বিমানের শীর্ষ প্রশাসনে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও লবিংয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছে
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বলাকা ভবন এবং দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের লাগেজ হ্যান্ডলিং নিয়ে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ; লাগেজ চুরি ও মালামাল খোয়া যাওয়া নিয়ে প্রবাসী কর্মী, খেলোয়াড় ও যাত্রীদের তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জের কাটতে না কাটতেই ৫ অক্টোবর (সোমবার) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০ উর্ধতন কর্মকর্তাকে আকস্মিক বদলি করা হয়। আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য এমন রদবদল করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবিকঅর্থে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় 'বলাকা ভবন'-এ সাংবাদিকদের প্রবেশে দুই দিনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলাকায় যাওয়া সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের জানিয়ে দেন, ভেতরে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল করে কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ না করেই বলাকা ভবন ত্যাগ করেন আগত সাংবাদিকরা।
আরও পড়ুন: বিমানের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বদলি
বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এমডি স্যার নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই দিন কোনো সাংবাদিককে যাতে ভেতরে আসতে না দেওয়া হয়। এসময় তিনি সাংবাদিকদের দুই দিন অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।
এমডি'র এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েক ঘন্টা আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ ও গ্রাহকসেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে সদ্যনিযুক্ত শাহনুর আহমেদ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে গতরাতে একাধিক গনমাধ্যমকে বিমানের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এবং উন্নতির প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু তার জ্ঞাতসারেই এমন অনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এই বিষয়ে তার নির্লিপ্ত ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ সাংবাদিকেরা।
এদিকে, বিমানের জনসংযোগ বিভাগ থেকে মহিউদ্দিন আহমেদকে গতরাতেই এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগে বদলি করা হলেও তিনি আজ সকাল থেকেই বলাকা ভবনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার রোধে স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদই বা কেন মহিউদ্দিন আহমেদকে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইলেন - এনিয়ে ধোয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি: নিরাপত্তার ফাঁক গলে সক্রিয় ‘সিন্ডিকেট’
এই বিষয়ে বলাকা ভবনের একাধিক সূত্র আশংকা করছে, ৫ অক্টোবরের আকস্মিক রদবদল নিয়ে বিমানের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকতে পারে যা নিয়ন্ত্রণে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৫ অক্টোবরের এই রদবদলের ঠিক কয়েকদিন আগে (১ অক্টোবর) বিমানের ৩ জন পরিচালকসহ ৪ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সকালে বদলি এবং বিকেলেই রহস্যজনকভাবে সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। এছাড়া কিছুদিন আগে এক কর্মকর্তাকে সকালে পদোন্নতি দিয়ে বিকেলে তা বাতিল করার ঘটনাও ঘটে।
এই ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা বিমানের শীর্ষ প্রশাসনে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও লবিংয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। অথচ কোনো লিখিত নির্দেশনা বা কারণ না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ বিমানের জনসংযোগ ও গ্রাহকসেবা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে শাহনুর আহমেদ এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিমানের এমডি কাইজার সোহেল আহমেদ এবং শাহনুর আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
ফলে ঠিক কী কারণে সাংবাদিকদের বলাকা কার্যালয়ে প্রবেশে দুই দিনের এই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা অদ্যাবধি স্পষ্ট হয়নি।
Shamiur Rahman
