রাজবাড়ীতে কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যা, গ্রেপ্তার-৩

নেহাল আহমেদ প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫৩ পিএম

পুলিশ সুপার মনির হোসেন বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকেই পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে

রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর কলেজ শিক্ষার্থী রোহান হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) ও সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে মো. শরীফ (২৭)।

পুলিশ সুপার মনির হোসেন বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকেই পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকান্ডের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার জানান, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জের ধরেই রোহানকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা রোহানকে ডেকে নিয়ে প্রথমে গামছা ও টি শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ যাতে ভেসে না ওঠে সেজন্য চাকু দিয়ে পেট কেটে বস্তায় ভরে একটি ডোবায় একটি ডুবিয়ে রাখা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহটি ভেসে ওঠে। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত গ্রেপ্তার আসামিরা সকলেই মাদকাসক্ত। এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা চলছে। এই হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত টি শার্ট, গামছা ও ছুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দাদশী ইউনিয়নের রঘনাথপুর গ্রামের একটি ডোবা থেকে ফুয়াদ হাসান রোহান নামে এক শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ৫ অক্টোবর বিকেলে রোহান নিখোঁজ হন। রোহান রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদাশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় শুক্রবার রোহানের বাবা ফরদাদ চৌধুরী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মো. শামসুল হক, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ, গোয়েন্দা শাখার ওসি মফিজুল ইসলামসহ প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত