অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষিত ⊕ প্রশ্নবিদ্ধ আইডিআরএ ⊕ উদ্বেগে ১২ লাখ গ্রাহক
রূপালী লাইফের সিইওকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে শ্লথগতি
অভিযোগের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
দেশের বিমা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও দুর্বল তদারকির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার, ভুয়া ব্যবসা সৃষ্টি, কোম্পানির অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।
মুলত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ১৫ আগস্ট ও বিভিন্ন দিবসে কোম্পানিটির কোটি কোটি টাকা তসরুপ হয়েছে। আর নানা উপায়ে অর্থ বের করত ফ্যাসিস্টের অর্থায়নকারী গোলাম কিবরিয়া। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির অনিয়মে খাদের কিনারে এসে পড়েছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে বীমা গ্রাহকদের আমানত। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তদন্তেও উঠে এসেছে কোম্পানিটির নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের চিত্র।
তবে অনুমোদনহীন বীমা পরিকল্পনা বিক্রি, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পলিসি তামাদির উচ্চহার, ক্যাশ ইন হ্যান্ডের নামে অর্থ আত্মসাত, একক প্রিমিয়ামকে মেয়াদি বীমা দেখিয়ে ব্যাপক তহবিল লোপাট, সম্পদ বিনিয়োগে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতি আর কেলেঙ্কারির বোঝা নিয়ে রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও পদে বহাল তবিয়তেই আছেন গোলাম কিবরিয়া। অথচ তার বিরুদ্ধে সবগুলো অভিযোগের সত্যতা উঠে এসেছে খোদ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে। ফলে গোলাম কিবরিয়া অনিয়মকে নিয়ম বলে চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কিছু তোয়াক্কা করছেন না।
তার অনিয়মগুলো যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। ফলে জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও তিনি নিরবে দাফিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে আইন লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। গোলাম কিবরিয়া অনিয়ম ও অনৈতিক পন্থায় অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং সুপরিকল্পিতভাবে আত্মসাত করেছেন কোম্পানির কোটি কোটি টাকা। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১২ লাখ গ্রাহকের শত শত কোটি টাকার আমানত।
জানা যায়, মো. গোলাম কিবরিয়া ২০০০ সালে ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ দেখিয়ে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে এজিএম হিসেবে যোগ দেন। পরে ভুয়া এমবিএ সনদ দেখিয়ে ২০১৪ সালে সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে, কোম্পানির টাকা আত্মসাত করে তিনি বহুতল ভবন নির্মাণ, ফ্ল্যাটসহ নামে-বেনামে অবৈধভাবে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। এছাড়া কোম্পানিতে সিন্ডিকেট তৈরি করে কর্মকর্তাদের অবণ্টনকৃত কমিশন বিল আত্মসাৎ, পারিবারিক ভ্রমণ ব্যয় দেখিয়ে কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ, আপ্যায়ন বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ, উন্নয়ন সভার নামে অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন দিবস ও প্রচারণা বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং কোম্পানির ভবিষ্যত তহবিল থেকে টাকা তছরুপের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কোম্পানির উন্নয়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে বছর শেষে অবণ্টনকৃত বিভিন্ন কমিশন বিল, ইনসেনটিভ বিল, বেতন ভাতার ৯৯ হাজার তিনশ ৭৯ টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেন। আর এই কাজে তাকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন কোম্পানির কমিশন ইনচার্জ আকতার হোসেন এভিপি ও সাবেক ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন -ডিভিপি।
নিয়ম অনুযায়ী কমিশন সংক্রান্ত যেকোন বিল সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এই ক্ষেত্রে সেটা মানা হয়নি। এই খাতে এভাবে বছরের পর বছর জাল জালিয়াতির মাধ্যমে লুট করা হয়েছে বিপুল অংকের অর্থ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তদন্ত-সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আইডিআরএতে আটকে রয়েছে। একই সময়ে গোলাম কিবরিয়াকে পুনরায় সিইও হিসেবে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি রূপালী লাইফের প্রায় ১২ লাখ গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অভিযোগের সূত্রপাত
রূপালী লাইফের নিরীক্ষা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মো. জহিরুল ইসলাম গত বছরের ২২ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
উক্ত অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে এবং এর নেতৃত্বে রয়েছেন সিইও গোলাম কিবরিয়া।
এই অভিযোগে জাল-জালিয়াতি, ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, লাইফ ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলন এবং কোম্পানির সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। পরে পদত্যাগে বাধ্য হন আইডিআরএ-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান সাবেক সচিব ড. আসলাম আলম চৌধুরী।
তদন্তের আগেই পুনর্নিয়োগ?
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ পরিচালনা পর্ষদের সভায় গোলাম কিবরিয়াকে পুনরায় সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। পরে ১১ জুলাই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নিয়োগ-সংক্রান্ত ফাইল আইডিআরএতে পাঠানো হয়।
এতে বিমা খাতের অনেকের প্রশ্ন—যখন একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন, তখন সেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে তাকে পুনর্নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলো?
শিক্ষাগত সনদ বিতর্ক
গোলাম কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এমবিএ সনদ ব্যবহার করেছেন, যার তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সনদে উল্লেখিত সাল ও সংশ্লিষ্ট সময়ের নথিপত্রের মধ্যে মিল পাওয়া যায় না। তবে এই সনদটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়া ১৯৬৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম জেলা চট্টগ্রাম, থানা-সন্দ্বীপ, ডাকঘর-ওসমানিয়া এবং গ্রাম মুছাপুর। তার বাবার নাম সেকান্দর বাদশা ও মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।
একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মো. গোলাম কিবরিয়া বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কথিত এমবিএ'র জাল সনদ সংগ্রহ করেছেন। তিনি এমবিএ পাস দেখিয়েছেন ২০১০ সালের, কিন্তু তার সনদে উল্লেখ রয়েছে ২০১১ সাল। আবার সেই সময়ের সনদ বাতিল ঘোষণা করেছিল শিক্ষা বোর্ড।
কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোম্পানির অর্থ বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
☞ বণ্টন না হওয়া কমিশনের অর্থ আত্মসাৎ;
☞ ভুয়া বিদেশ সফর ও ভ্রমণ ব্যয় দেখানো;
☞ ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ও গ্যারেজ ব্যয়ের নামে প্রায় ১৫ লাখ ৫২ হাজার টাকার বিল;
☞ নিয়মিত ভুয়া চিকিৎসা বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন;
☞ কোম্পানির লাইফ ফান্ড থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ;
☞ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় কথিত ‘ডামি কোড’ ব্যবহার করে ভুয়া ব্যবসা সৃষ্টি এবং প্রিমিয়ামের অর্থ আত্মসাৎ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
আইডিআরএর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
অভিযোগ রয়েছে, আইডিআরএর সদস্য আপেল মাহমুদ তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পুনর্নিয়োগের অনুমোদন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আপেল মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আমাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।”
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সাংবাদিকের অনুসন্ধানের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কে এই আপেল মাহমুদ?
পৃথক অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবিরের অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন আপেল মাহমুদ। তিনি দফায় দফায় ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন এবং সর্বশেষ এমডি পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে কোম্পানিটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে জড়িয়ে পড়ে এবং এর শীর্ষ কর্তারা অর্থ আত্মসাতের দায়ে বর্তমানেও কারান্তরীণ আছেন। তবে সেই সময় শেখ কবিরের জোর তদ্বিরে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার খাতা থেকে নিজের নাম কাটান আপেল মাহমুদ।
ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আপেল মাহমুদ এখন নিজেকে পুরোদস্তুর আওয়ামী বিরোধী হিসেবে জাহির করছেন। যার কারণে আর্থিক সেক্টরে তাকে ‘গুপ্ত’ বা ভোল্ট পাল্টানো কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান মিতার প্রভাবেই ২৬ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে গোলাম কিবরিয়া বহাল ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আগের অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রহস্যময় নীরবতা
উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজধানীর কাকরাইলে রূপালী লাইফের প্রধান কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সিইও অফিসে উপস্থিত নেই।
পরবর্তীতে, মো. গোলাম কিবরিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি
তদন্তে বিলম্ব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং পুনর্নিয়োগের বিষয়ে জানতে আইডিআরএর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হলেও অদ্যাবধি সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গ্রাহকদের উদ্বেগ
রূপালী লাইফের কয়েকজন গ্রাহক বলেন, বিমা খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও দ্রুত পরিষ্কার করা উচিত।
বিমা খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি, দ্রুত তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে অভিযোগকারীরা বলছেন, তদন্তকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে আইডিআরএর সংশ্লিষ্ট সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
এখন নজর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে শুধু রূপালী লাইফ নয়, পুরো বিমা খাতেই আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
Shamiur Rahman
