ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে এই প্রহ্লাদ জোশী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১২:০৫ পিএম

১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ধারওয়াদ-হুব্বালী লোকসভা আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং এরপর থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের আসনটি ধরে রেখেছেন

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু কর্তৃক গৃহিত হওয়ার পর, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নতুন দায়িত্ব ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে প্রহ্লাদ ভেঙ্কটেশ জোশী কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এর পাশাপাশি এখন থেকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদারকিও করবেন। ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় ফিরে আসা পাঁচবারের এই সংসদ সদস্যকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এদিকে, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় প্রহ্লাদ জোশী শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের পাশাপাশি নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পালনের বার্তা দিয়েছেন। প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান জোশী। তিনি বলেন, নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কর্তব্যবোধ ও বিনয়ের সঙ্গে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছি। আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
 
শিক্ষা খাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের কথা তুলে ধরে জোশী বলেন, গত ১২ বছরে মোদি সরকার অনেক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি তার পূর্বসূরি ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূয়সী প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) বাস্তবায়নে তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
 
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের গত ১২ বছরে বহু মাইলস্টোন অর্জিত হয়েছে। গত চার থেকে পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করেছেন এবং এ সময় শিক্ষা খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
 
জোশীর মতে, এসব সংস্কার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।”
 
প্রহ্লাদ জোশী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় তিনি সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করব এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।”

১৯৬২ সালের নভেম্বরে উত্তর কর্ণাটকের একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী জোশী অল্প বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সাথে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ধারওয়াদ-হুব্বালী লোকসভা আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং এরপর থেকে প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের আসনটি ধরে রেখেছেন।

২০১৯ সালে তিনি প্রথম মোদি মন্ত্রিসভায় সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কর্ণাটকের প্রভাবশালী লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের কিছু অংশের বিরোধিতার মুখে পড়লেও, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পাসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান হয়।

সমস্ত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা পেরিয়ে প্রহ্লাদ জোশী কর্ণাটক রাজ্য শাখা এবং জাতীয় নেতৃত্বে বিজেপির অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান অটুট রেখেছেন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত