অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি ⊕ টেন্ডার কারচুপির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ⊕ তদন্ত দাবি ভুক্তভোগীদের
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগ
মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ; দুদক ও বেবিচক চেয়ারম্যানকেও অনুলিপি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি স্থগিতের দাবি
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) শুভাশীষ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ঠিকাদার সিন্ডিকেট পরিচালনা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সূত্রমতে, ১৯৯৬ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে কর্মজীবন শুরু করেন শুভাশীষ বড়ুয়া। চাকুরী স্থায়ী হওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক পদোন্নতি বাগিয়ে নেন তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বেবিচকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়, অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত প্রায় ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে লাইটিং, ট্যাক্সিওয়ে লাইটিং, সাব-স্টেশন নির্মাণ ও আধুনিকায়নসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে শাওন ইলেক্ট্রিক, দুলাল এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স আতিক কনস্ট্রাকশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনিক অনুমোদন, দরপত্র মূল্যায়ন, ডেভিয়েশন অনুমোদন এবং বিল পরিশোধের বিভিন্ন ধাপে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে।
অভিযোগপত্রে বরিশাল, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, শাহ আমানত এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক অসঙ্গতির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ে সক্রিয় ছিল। অভিযোগকারীরা এই বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র সংযুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তা শুভাশীষ বড়ুয়াকে প্রধান প্রকৌশলী পদে কোনো ধরনের পদোন্নতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) শুভাশীষ বড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Shamiur Rahman
