অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব
আটাব নির্বাচন স্থগিত করল এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড
মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসকের সিদ্ধান্ত, ভোটার তালিকায় ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম, আপিল বোর্ডের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ডের সিদ্ধান্ত
ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন নির্বাচন স্থগিত করেছে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড।
প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে নির্বাচন বোর্ড গঠন, ভোটার তালিকায় ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ভোটার হিসেবে সংযোজন এবং আপিল বোর্ডের কার্যক্রমে স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন নিয়ে দাখিল হওয়া উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও শুনানি শেষে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড দেখতে পায় যে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর আইনগত ও প্রশাসনিক ত্রুটি রয়েছে>6। এসব অনিয়মের কারণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় বলে বোর্ড মত দেয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসকের অবৈধ সিদ্ধান্ত
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রশাসকের আইনগত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করেন, যা বিদ্যমান বিধি-বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম
তদন্তে উপস্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, প্রাথমিক ভোটার তালিকায় অসংখ্য অনিয়ম রয়েছে। তালিকায় ভুয়া ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মৃত ব্যক্তিদেরও ভোটার হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি বিধিমালা অনুসারে বৈধ লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সিকে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
আপিল বোর্ডের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি আপিল বোর্ডের কার্যক্রমকে ঘিরে। বিধি অনুযায়ী তিন সদস্যের উপস্থিতিতে আপিল শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র দুই সদস্যের উপস্থিতিতে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। পরে প্রকাশিত রায়ের কপিতে তিন সদস্যের স্বাক্ষর সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা জালিয়াতির শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের নথিপত্রে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করার অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী তারিখ ব্যবহার করে নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
কর্মকর্তাদের বিতর্কিত ভূমিকা
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আটাবের প্রশাসক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল। একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে শুরু থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব
চূড়ান্ত শুনানি শেষে এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই নির্বাচন আয়োজন করলে তা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে সাধারণ সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে শুধু নির্বাচন স্থগিত করাই যথেষ্ট নয়; নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আটাবের ভোটার ও সদস্যরা। অন্যথায় ভবিষ্যতেও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে অভিমত তাদের।
Shamiur Rahman
