৩টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি, শক গান উদ্ধার

মতিঝিলে চাঁদাবাজি-গুলিবর্ষণের মূলহোতা বাপ্পিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৬:৩১ পিএম

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর ব্যবসায়ীর অফিসে গুলি, দীর্ঘ দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্ত বাপ্পি ও তার ৪ সহযোগীকে

রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের একটি আলোচিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কথিত শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগ।

পরে, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি এসব তথ্য জানান।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ১৫ মে দক্ষিণ কমলাপুরের একটি কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর ১৯ মে ওই ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পর মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত শুরু করে ডিবি।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, গুলিবর্ষণের ঘটনায় তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য। তবে ঘটনার পরপরই তারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে দুই মাস আত্মগোপনে থাকা সত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লো অভিযুক্তরা।

কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে সাফল্য

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা, স্বার্থগত বিরোধ ও চাঁদাবাজি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাজুক হয়ে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নড়েচড়ে বসেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কঠোর নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে নামে ডিবির একাধিক চৌকস টীম। পাশাপাশি সক্রিয় করা হয় একাধিক বিশ্বস্ত সোর্স সেল। এরফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

এরই ধারাবাহিকতায় কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মো. মানিক কাজী (৫০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় একই দিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে উত্তর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অফিস থেকেই মিলল অস্ত্রভাণ্ডার

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুরোনো অপরাধেরও অভিযোগ

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র বহন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজধানীর বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত