জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ
দৈনিক প্রলয়ের সম্পাদক-প্রকাশকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে তদন্তে মিলল সত্যতা; দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় আদালতে পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিল
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ করেছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দৈনিক প্রলয় পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারেক হাসান তদন্ত শেষে ১৮ জুলাই ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ নম্বর আমলী আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
আদালত ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার বাদী মো. খায়রুল আলম রফিক অভিযোগ করেন, তাকে ত্রিশালের সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান আনিছের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মিথ্যাভাবে পরিচয় দিয়ে দৈনিক প্রলয়-এ একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। অথচ তিনি কখনও ওই দায়িত্ব পালন করেননি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল— “নেপথ্যে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার মদদ, থামছেই না সাবেক এমপি আনিছের প্রেস সেক্রেটারি রফিকের অপকর্ম”। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সংবাদটিতে উপস্থাপিত তথ্য সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে একজন পেশাদার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সংবাদের কাটিং এবং বাদীর সম্পাদিত (ফটো এডিট করা) ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে অপপ্রচার চালানো হয়। একইসঙ্গে “ময়মনসিংহে রফিক-রেজাসহ এজাহারভুক্তদের গ্রেপ্তারে ডিআইজির বরাবরে আবেদন” শিরোনামে আরও একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তদন্তে এ সংবাদটিরও কোনো বাস্তবভিত্তিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে তারা হলেন— দৈনিক প্রলয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোছা. রোজিনা আক্তার, প্রধান সম্পাদক মো. মির্জা সোবেদ আলী (রাজা), নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান শিপন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে বাদী কখনও সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান আনিছের প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন— এমন কোনো তথ্য, সরকারি নথি বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এ দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেন, বাদীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, তার পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। পরে একই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার আরও বিস্তৃত করা হয়।
সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তদন্তে প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০২ ধারায় বিচার চেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
Shamiur Rahman
