মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় নোবিপ্রবি-ডিপিডিটির সমঝোতা স্মারক

গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত, নোবিপ্রবিতে গড়ে উঠবে টিআইএসসি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৭ পিএম

গত ১৩ জুলাই (সোমবার) নোবিপ্রবির উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং ডিপিডিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন

শেহাব উদ্দিন আহমেদ টিপু, নোয়াখালী

গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পেটেন্ট, প্রযুক্তি সহায়তা এবং উদ্ভাবন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই (সোমবার) নোবিপ্রবির উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নোবিপ্রবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং ডিপিডিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এ অনুষ্ঠিত হয় ‘পেটেন্টস টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি) সার্ভিসেস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, এই সমঝোতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাস্বত্ব বিষয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, “শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবেষণার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই নোবিপ্রবিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলসহ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন সাপোর্ট সেন্টার (টিআইএসসি) প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

গবেষণার মৌলিকত্ব রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য আরও বলেন, গবেষকদের উদ্ভাবন ও সৃজনশীল অবদান যেন অন্য কেউ নিজের নামে দাবি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে গবেষকদের মেধা ও পরিশ্রম আইনগত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের পথ আরও সুগম হবে।

ডিপিডিটির মহাপরিচালক ও কর্মশালার রিসোর্স পার্সন মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষক ও উদ্ভাবকদের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধনে সহযোগিতা দিতে ডিপিডিটি নিরলসভাবে কাজ করছে। নোবিপ্রবিতে টিআইএসসি প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং গবেষকরা আন্তর্জাতিক পেটেন্ট তথ্যভান্ডার ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

নোবিপ্রবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং টিআইএসসি ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, টিআইএসসি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি সহায়তা পাবেন। একইসঙ্গে পেটেন্ট অনুসন্ধান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে নোবিপ্রবির গবেষকদের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও)-এর একটি কার্যকর সংযোগও তৈরি হবে।

নোবিপ্রবি আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য দেন ডিপিডিটির উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এবং লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেড (বিএনও লুব্রিক্যান্টস)-এর পরিচালক মো. সালাউদ্দিন ইউসুফ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ সমঝোতা নোবিপ্রবির গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সংযুক্ত করবে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে শিল্প ও অর্থনীতির সঙ্গে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত