ঢাকাসহ ৪ জেলায় ভাটারা থানার বিশেষ অভিযান

আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূলহোতাসহ ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ২০টি মোটরসাইকেল উদ্ধার

আবু তাহের বাপ্পা প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৪:২৯ পিএম

ভাটারা থানার ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার চোরাই মোটরসাইকেল; মূলহোতাসহ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

একটি সাধারণ মোটরসাইকেল চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে একটি অপরাধী চক্রের পুরো সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ২০টি মোটরসাইকেল।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দিকনির্দেশনা, বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতা এবং ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে ঢাকাসহ কুমিল্লা, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, গত ২৪ জুন পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায়  দায়েরকৃত একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।

পরে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ভাটারা থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) দেবাশীষ মণ্ডলের নেতৃত্বে গঠিত একটি চৌকস টীম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে রাজধানীর খিলবাড়ীটেক এলাকা থেকে সোহেল (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জুন রিপন (৪৫) নামে চোরচক্রের আরেক সদস্যকে আটক করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রিপনের বিরুদ্ধে চুরি-সংক্রান্তসহ মোট ৩৩টি মামলা রয়েছে। পরে আদালতের অনুমতিতে পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অভিযান চালিয়ে ৯টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রিপন ও তার সহযোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে নুরুজ্জামান জামালকে আটক করে পুলিশ।

জামালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ময়মনসিংহ সদর, ফুলপুর এবং নেত্রকোনা সদর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ১১টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের আরও তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া রিপন ও নুরুজ্জামান জামাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে সেগুলো ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। এছাড়া নুরুজ্জামান জামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ২০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে ৬টি পালসার, ৩টি ডিসকভার ১২৫ সিসি, ২টি হোন্ডা শাইন, ২টি টিভিএস মেট্রো প্লাস, ১টি হিরো গ্লামার, ১টি বাজাজ বক্সার, ১টি হোন্ডা লিভো ১১০ সিসি, ১টি হোন্ডা এক্স-ব্লেড, ১টি টিভিএস স্ট্রাইকার, ১টি হিরো হোন্ডা এবং ১টি ইয়ামাহা এফজেড-এস ভার্সন থ্রি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের সম্পদ সুরক্ষায় ভাটারা থানা পুলিশের এই সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত