জুয়াচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:১৫ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংকে বসেই নিষিদ্ধ জুয়া ও ক্রিপ্টো লেনদেন করছিলেন কর্মকর্তা, বরখাস্ত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক রকিবুল হাসান খান রকিকে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশনস অনুযায়ী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

গত রোববার এই সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি হয়। তবে গত বুধবার থেকে তিনি অফিসে অনুপস্থিত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রকিবুল হাসান খান রকিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারি বিধিমালার ৪৫(৫) ধারার আওতায় সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসনিক নির্দেশিকা ২১(এ) ধারা অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা (খোরপোশ) পাবেন। এই বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সূত্র জানায় গত বুধবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করতে যায়। ওই টিমের এক সদস্য রকিকে ফোন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ায় তিনি দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি অফিসে অনুপস্থিত। তবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে, নাকি আত্মগোপনে আছেন এই বিষয়ে কেউ নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, তার অবৈধ কিছু কার্যক্রমের জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করলে তদন্তাধীন অবস্থায় সেই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সেই বিধির আলোকেই এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রকিবুল হাসান রকি একাধিক ব্যাংকে বেশ কিছু হিসাব পরিচালনা করতেন। এসব হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই অর্থের একটি বড় অংশ অবৈধ জুয়া ও নিষিদ্ধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

অফিসে রকিবুলের আচরণ সম্পর্কে তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা বা কথাবার্তা খুব একটা বলতেন না এবং সবসময় নিজের মতো করে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তার এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সংবাদে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে মো. রকিবুল হাসান খান রকির ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত