অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের কন্ঠরোধের চেষ্টা

আওয়ামী শাসনামলে ৪৫ মামলা, পরে ১৫৯ অভিযোগ: তদন্তে অধিকাংশ অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে দাবি

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৫:২৪ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ১৫৯টি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে এসব অভিযোগের অধিকাংশেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে একাধিক মামলা ও অভিযোগ দায়েরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মাত্র ১৭ মাসে আরও ১৫৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশই তদন্তে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

খায়রুল আলম রফিক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থপাচার, মাদক, সন্ত্রাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই একটি প্রভাবশালী মহল তাঁকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করে।

তিনি অভিযোগ করেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ১৫৯টি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে এসব অভিযোগের অধিকাংশেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

খায়রুল আলম রফিকের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে পরবর্তীকালে একটি মানহানির মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনও হয়নি।

এদিকে, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরে অবাধে যাতায়াত করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে খায়রুল আলম রফিক বলেন, “আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতা করেছি। গত ১১ বছরে প্রায় ৯০০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। এজন্য বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণপদকসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা পেয়েছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৪৪টি মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। একটি মামলায় তিন বছরের সাজা হয়েছিল। এসব মামলায় আমাকে ২১ বার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে এবং প্রায় এক বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনবার পুলিশের নির্যাতনেরও শিকার হয়েছি। কিন্তু কোনো বাধাই আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারেনি।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি দায়ের হওয়া অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হওয়ায় আমি পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

উল্লেখ্য, খায়রুল আলম রফিক বর্তমানে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডি২৪লাইভ-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বানোয়াট মামলা বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের ভিত্তি।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত